বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) দেশের ক্রীড়ার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সব জেলা থেকে তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্রীড়া মেধা বাছাই করার উদ্যোগ নিয়েছে। সে উদ্যোগের প্রেক্ষিতে গতকাল ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্রতিভাবান শিশু–কিশোরদের বাছাই কার্যক্রম। সকাল ৯টা হতে শুরু করে ৪টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলে। চৈত্রের খরতাপ উপেক্ষা করে উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে অনেক শিশু কিশোর খেলোয়াড় হওয়ার লক্ষ্যে জেলা স্টেডিয়ামে ভিড় করে। তাদের অনেকের সাথেই ছিলেন তাদের বাবা–মা। বাছাই করতে আসা হকি ইভেন্টের কোচ মোহিত জানান ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। তবে চট্টগ্রাম হিসেবে আরো বেশিসংখ্যক অংশগ্রহনকারীর আশা করেছিলাম আমরা। ভারোত্তোলনের কোচ নাইম জানান অন্যান্য ইভেন্টের চাইতে ফুটবল এবং ক্রিকেটে ছিল অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বেশি। স্টেডিয়াম মাঠে ফুটবলের ম্যাচ খেলিয়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পরখ করছিলেন চারজন বাছাইকারী কোচ। তারা সবাই এসেছেন ঢাকা থেকে। ক্রিকেটের প্রতিভা যাচাই হচ্ছিল স্টেডিয়ামের বাইরে ক্রীড়া পরিষদ সংলগ্ন নেটে। এখানেও প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অন্যান্য ইভেন্টের বাছাই কার্যক্রম স্টেডিয়ামের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা থেকে আসা বিকেএসপির ১১ জনের বাছাই দলটির টিম লিডার হলেন মাহবুবুর রহমান। তিনি বাস্কেটবলেরও চিফ কোচ। সারা দিনের কার্যক্রম শেষে মাহবুব জানান মোট ২৮৬ জন বিভিন্ন ইভেন্টের ক্রীড়ায় পরীক্ষা দিয়েছে। এদের মধ্যে ছেলেদের সংখ্যা ২৭৪ এবং মেয়েদের সংখ্যা ১২ জন। ফুটবলে পরীক্ষা দিয়েছে ১৩১ জন ছেলে এবং ১ জন মেয়ে। অন্যদিকে ক্রিকেটে মোট ১১৯ জন পরীক্ষা দেয়। এদের মধ্যে ১১৪ জন ছেলে এবং ৫ জন মেয়ে। অন্যান্য ইভেন্টের অংশগ্রহণকারীর ছিল মোট ৩৫ জন। টিম লিডার মাহবুব জানান যারা এসেছে আমরা সবার পরীক্ষাই নিয়েছি। কাউকে বাদ দেইনি। অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে ছিল প্রচুর উৎসাহ। আগামী ১৯–২২ এপ্রিলের মধ্যেই অনলাইনে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ফলাফলের পরে বাছাইকৃত খেলোয়াড়দের নিয়ে বুনিয়াদী প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ শেষে প্রকৃত মেধাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের জন্য বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ দেয়া হবে। গতকাল চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে ফুটবল, ক্রিকেট ছাড়া অন্যান্য ইভেন্ট যেমন আর্চারী, এ্যাথলেটিক্স, বাস্কেটবল, হকি, জুডো, কারাতে, শ্যুটিং, তায়কোয়ানডো, ভলিবল, উশু, স্কোয়াশ, কাবাডি, ভারোত্তলন ও ব্যাডমিন্টন খেলায় ১০–১৪ বৎসর এবং বক্সিং, জিমন্যাস্টিক্স, সাঁতার, টেবিল টেনিস, টেনিস খেলায় অনূর্ধ্ব ৮–১২ বৎসর বয়সী প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণের জন্য বাছাইয়ের আওতায় আনা হয়। শিশু–কিশোররা তাদের ছবি, অনলাইন জন্ম সনদের ফটোকপি এবং অনলাইনে আবেদনের প্রিন্ট কপিসহ সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত ছিলেন প্রশিক্ষকদের সামনে।
জানা গেছে পুরো দেশ থেকে নির্বাচিত ১০০০জন খেলোয়াড়কে বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ বিকেএসপি ঢাকায় প্রথমে ১মাস মেয়াদের এবং পরবর্তীতে ৪০০জনকে ২মাস মেয়াদের দুই পর্বের বুনিয়াদি আবাসিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। দুই পর্বে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের মধ্যে প্রকৃত ক্রীড়ামেধা সম্পন্ন খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের নিমিত্তে বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ থাকবে।












