দীর্ঘদিনের দাবির পর কক্সবাজারে হতে যাচ্ছে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট। আনুমানিক শত কোটি টাকার বাজেটে কক্সবাজার শহরের আলিরজাহাল এলাকার দুই একর জায়গায় প্ল্যান্টটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্ল্যান্টে বর্জ্য দিয়ে জৈব সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
সমপ্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নির্মাণ প্ল্যান্ট চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেন। এর ভিত্তিতে এই প্ল্যান্টটি নির্মাণের দাপ্তরিক নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ইতোমধ্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকল্পের কাগজপত্র তৈরি করেছে। জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর ও কক্সবাজার পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, প্রয়োজনীতার তাগিদে কক্সবাজার শহরকেন্দ্রিক একটি প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট নির্মাণ চেয়ে সমপ্রতি আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখি। চিঠির প্রেক্ষিতে প্ল্যান্ট নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে নির্দেশ দেন তিনি। পরে প্রধামন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে প্ল্যান্ট নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত অনুলিপি আমাকেও পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমি ইতোমধ্যে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পৌরসভার শীর্ষ কর্মকর্তার সাথে যৌথ বৈঠক করি। বৈঠকে তাদের মালিকানাধীন পৌর এলাকার আলিরজাহাল এলাকায় অবস্থিত ২.২ একর জমি দিতে সম্মত হয়েছে পৌরসভা। আর প্ল্যান্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নারুল্লাহ জানান, একটি সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে ঢাকা থেকে বলা হয়েছে। তার ভিত্তিতে পৌরসভার সাথে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ সংক্রান্ত বিষয় চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, প্ল্যান্টটি বড় পরিসরের হবে। এতে কক্সবাজার শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেলসহ পুরো শহর এবং আশেপাশের এলাকার সব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা যাবে। এই প্ল্যান্টে বর্জ্য থেকে জৈব সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। বিপুল সার এবং এক মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী পরাক্রম চাকমা জানান, বর্তমানে পুরো শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পৌরসভা হাতে রয়েছে। অপ্রতুল জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্ভব হয় না। বলে শহরের প্রাণকেন্দ্রেই কস্তুরাঘাট এলাকায় খোলা স্থানে বর্জ্য ফেলতে হয়। এতে একটি বড় স্থান ময়লার বিশাল পাহাড়ে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানের শহর থেকে দূরে রামুর চেইন্দায় একটি ছোট্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট রয়েছে। কিন্তু সেখানে মাত্র ২০টি হোটেলের বর্জ্য দিয়ে চাহিদা পূর্ণ হয়ে যায়। নতুন করে হাতে নেয়া প্রকল্পটি যেহেতু বড় পরিসরে হবে, তাতে শহরের সব বর্জ্য সংস্থান করা যাবে। এতে ময়লার দুর্ভোগ থেকে মুক্ত হবে শহর।
শহরবাসী জানায়, বর্তমানে পুরো শহরজুড়ে যত্রযত্র ময়লা ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকে প্রতিনিয়ত। আর যা সংগ্রহ করা হয় তাও শহরের ভেতরে জমাট করে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শাহীন আবদুর রহমান বলেন, কস্তুরাঘাট এলাকায় যে ময়লার পাহাড় জমে আছে তা শহরবাসীর স্বাস্থ্যের অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ। এখানে চিকিৎসা বর্জ্যের মারাত্মক ক্ষতিকর উপাদন রয়েছে, যা বাতাসে ছড়িয়ে মানুষের শরীরে ঠাই নিচ্ছে। সেখান থেকে ক্যান্সারসহ প্রাণঘাতি রোগ সৃষ্টি হতে পারে।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবদুর শুক্কুর সিআইপি বলেন, ময়লার কারণে কক্সবাজারে আসা পর্যটকরা মারাত্মকভাবে বিড়ম্বনায় থাকে। অন্যদিকে কস্তুরাঘাটে জমে থাকা ময়লার পাহাড় থেকে ক্ষতিকারক উপাদন সাগরে পড়ে মৎস্যভান্ডারের ক্ষতি হচ্ছে। হাতে নেয়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্টটি বাস্তবায়ন হলে সব সমস্যা লাঘব হবে।
সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক সারাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। তারই আলোকে কক্সবাজারের প্রকল্পটির গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করছি এটি কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে।










