একদিন পর জামিন পেলেন দাদী, তার জিম্মায় মুক্তি দেয়া হয় দুই শিশুকেও

গৃহবধূকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ৩ জুলাই, ২০২৬ at ৪:১৮ পূর্বাহ্ণ

চন্দনাইশের পূর্ব জোয়ারা এলাকায় গৃহবধূকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় একদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম। সেই সাথে ভিকটিম গৃহবধূর দুই শিশুকেও তার হেফাজতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত১ এর বিচারক আব্দুল হান্নান মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে মনোয়ারা বেগমের জামিন মঞ্জুর করেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ফোরকান মোহাম্মদ দৈনিক আজাদী বলেন, মনোয়ারা বেগমের পাশাপাশি তার মেয়ে তথা ভিকটিমের ননদ নাদিয়া আক্তারের জামিন চেয়ে আবেদন করলে বিচারক নাদিয়া আক্তারের জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। তবে মনোয়ারা বেগমের জামিন মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি মনোয়ারা বেগমের হেফাজতে তার দুই নাতি তথা ভিকটিমের দুই শিশুকে মুক্তি দিতে নির্দেশ দেন বিচারক। এরই প্রেক্ষিতে মনোয়ারা বেগম ও তার দুই নাতি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বলেও জানান আইনজীবী ফোরকান। এর আগে গত বুধবার মনোয়ারা বেগম, নাদিয়া আক্তার ও ভিকটিমের স্বামী আরিফুল ইসলাম জিফাত আত্মসমর্পণ করে একই আদালতে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তখন তাদের সাথে ভিকটিমের দুই শিশু রবিউল হাসান আরাফ (২ বছর ৭ মাস) ও জাইফা ইসলামও () ছিলেন। শুনানি শেষে বিচারক উক্ত দুই শিশুসহ তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দুই শিশুর দেখভালের ক্ষেত্রে অন্য কেউ না থাকায় মূলত সেই সময় অবুঝ দুই শিশুকে বাবা, দাদী ও ফুফুর সাথে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। গতকাল দুই শিশুকে জিম্মায় চেয়ে তাদের নানী পৃথক একটি আবেদন দাখিল করেছিলেন জানিয়ে আইনজীবী ফোরকান বলেন, কিন্তু আদালত সেটি গ্রহণ করেননি।

আদালতসূত্র জানায়, যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ আয়শা ছিদ্দিকা মুক্তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে, দাবি করে চলতি বছরের ১০ মার্চ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন তার বাবা মনির আহমদ। চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১ এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ১১()/৩০ ধারায় নালিশী মামলাটি দায়ে করা হয়েছিল। তখন আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেয়। সংস্থাটি তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে গত ৬ মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারা তথা আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। আদালতসূত্র আরো জানায়, ঘটনার দিন তথা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিজ শয়নকক্ষ থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আয়শা ছিদ্দিকা মুক্তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তখন পুলিশের পক্ষ থেকেও একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার তদন্ত করে গত ২০ এপ্রিল আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিকটিম আয়শা ছিদ্দিকা মুক্তা একজন শান্ত প্রকৃতির সৎ চরিত্রের গৃহবধূ ছিলেন। শুধুমাত্র স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো এক শিশুর মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধপ্রথম দিনেই চট্টগ্রাম বোর্ডে অনুপস্থিত ১ হাজার ৩৪০ পরীক্ষার্থী