চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজারে ছোট–বড় সহস্রাধিক দোকান রয়েছে। ৫ শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আছেন। এছাড়া ৩ শতাধিক পরিবার দোভাষী বাজারে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং আবাসিক এলাকার যাবতীয় বর্জ্য পরিচ্ছন্নকর্মীরা পরিষ্কার করেন। প্রতিদিন প্রায় ১০ ভ্যান বর্জ্য হয়। তবে এসব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে কর্ণফুলী নদীতে। বছরের পর বছর ধরে ময়লা–আবর্জনা প্রকাশ্যে কর্ণফুলী নদীতে ফেলা হলেও কেউ বাধা দেন না। আবর্জনা কেন নদীতে ফেলা হচ্ছে সেই প্রশ্নও করেন না। গতকাল বিকাল ৫টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দোভাষী বাজারের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিচ্ছন্নকর্মীরা আবর্জনা নিয়ে প্রথমে কালো পলিথিনে ভর্তি করেন। ভ্যানের উপর বিশাল একটি ঝুড়ি বাধা থাকে। ময়লাভর্তি কালো পলিথিন ভ্যানের উপর রক্ষিত সেই ঝুড়িতে রাখা হয়। পরে ভ্যান টেনে চন্দ্রঘোনা খ্রিষ্টিয়ান মিশন হাসপাতালের সামনে ত্রিসুন্দরী পুলের উপর রাখা হয়। কর্মী ভ্যানের উপর উঠে ময়লাভর্তি কালো পলিথিনগুলো নদীতে ফেলছেন। এ সময় পাশ দিয়ে সিএনজি টেঙি, মোটরসাইকেলে করে মানুষ এবং অনেক পথচারী যাচ্ছিলেন। নদীতে আবর্জনা ফেলার দৃশ্যে কেউ গা করছেন না।
নদীতে কেন ময়লা ফেলা হচ্ছে? জানতে চাইলে পরিচ্ছনতাকর্মীর জবাব, নদীতে ময়লা ফেললে কী হইছে? আপনার সমস্যা কী? মাসের পর মাস এখান দিয়ে ময়লা ফেলছি। কখনো কেউ কিছু বলেনি। আপনি কোত্থেকে এসে নানা প্রশ্ন করছেন? পরিচ্ছন্নকর্মীরা বলেন, বাজারের কমিটি এখানে ময়লা ফেলতে বলেছে। এই জায়গা ছাড়া ময়লা ফেলার আর কোনো জায়গা কি দোভাষী বাজারে আছে? এখান থেকে ময়লা ফেলতেও সুবিধা। পলিথিনভর্তি ময়লা ত্রিসুন্দরী পুলের উপর থেকে দ্রুত নিচে কর্ণফুলী নদীতে ফেলা সহজ।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও পথচারী জানান, বছরের পর বছর ধরে দোভাষী বাজারের সকল ময়লা–আবর্জনা এই স্থান দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে ফেলা হচ্ছে। আমরা দেখে আসছি। বাজার কমিটি বাধা দেয় না, প্রশাসন কিছু বলে না। আমরা কী বলব? পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কি আমাদের কথা শুনবে?
স্থানীয়রা জানান, নিয়মিত আবর্জনা ফেলার কারণে কর্ণফুলী নদীর এই অংশে ভরাট হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
দোভাষী বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. আজাদ বলেন, কর্ণফুলী নদীতে আবর্জনা ফেলার বিষয়টি আমরা জানতাম না। নদীতে আবর্জনা ফেলা উচিত নয়। ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির পরবর্তী সভায় বিষয়টি তুলে ধরে এর সমাধান বের করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।













