স্ত্রীসহ পাঁচ-সাতজনের মারধরে ডান পা ভাঙে নিহত হাশেমের

চন্দনাইশে হাসপাতালে মুমূর্ষু ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে পুলিশের তথ্য

চন্দনাইশ প্রতিনিধি | শনিবার , ৭ নভেম্বর, ২০২৬ at ৫:৪৪ পূর্বাহ্ণ

চন্দনাইশে সেতুর ওপর মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকা ব্যক্তি হাশেমকে তার স্ত্রীসহ পাঁচ থেকে সাতজন মিলে মারধর করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এতে তার ডান পা ভেঙে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত মোহাম্মদ হাশেম (৩৭) উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাদশাপাড়া এলাকার বানু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী আয়শা আকতার প্রকাশ বাচুনিকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে চন্দনাইশ থানা পুলিশ। তাকে গতকাল শুক্রবার আদালতে চালান দেয়া হয়েছে। নিহত মোহাম্মদ হাশেমের পিতা বানু মিয়ার করা মামলায় তাকে চালান দেওয়া হয়।

নিহতের মা মরিয়ম খাতুন জানান, ১৫/১৬ বছর আগে তার ছেলে হাশেম দোহাজারী চাগাচর এলাকার আপন ফুফাত বোন আয়শা আকতারকে বিয়ে করে। পরে স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির লোকের প্ররোচনায় হাশেম বাপের দেয়া ঘরবাড়ি ও জায়গা জমি বিক্রি করে শ্বশুর বাড়ি চলে যায়। এরপর হাশেম মাঝেমধ্যে বাড়িতে বেড়াতে আসতো। তার ছেলে শ্বশুর বাড়িতে চলে যাওয়ার পর থেকে তার স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং মারধর করতো। তিনি জানান, গত বুধবার রাতেও তাকে মারধর করে। বৃহস্পতিবার সকালে সিএনজি টেক্সিতে করে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের বরুমতি ব্রিজে ফেলে যায়।

নিহত হাশেমের মেজ ভাই মোহাম্মদ মোস্তাক জানান, তারা ৪ ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি ভাগাভাগির পর হাশেম বাবার কাছ থেকে পাওয়া নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে শ্বশুরবাড়িতে চলে যায় এবং সেখানে স্ত্রীর নামে সম্পত্তি লিখে দিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করতেন। প্রায় চার বছর আগে হাশেম সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে প্রায় এক বছর আগে দেশে ফেরেন। মোস্তাকের অভিযোগ, দেশে ফেরার পর হাশেমের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর বিরোধ বেড়ে যায়। এ সময় স্ত্রী ও তাঁর স্বজনেরা হাশেমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মোহাম্মদ হাশেমকে তাঁর স্ত্রীসহ পাঁচ থেকে সাতজন মিলে মেরেছে বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে। এ মারধরে তাঁর ডান পা ভেঙে গিয়েছিল। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধযাদুঘর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, অর্ধযুগের বেশি লতাপাতায় ঢাকা
পরবর্তী নিবন্ধহাসানের ৬ উইকেটের আনন্দ ম্লান ব্যাটিং ব্যর্থতায়