আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন পরীমনি

সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিয়ে গালিগালাজ

| শুক্রবার , ৬ নভেম্বর, ২০২৬ at ৫:২৯ পূর্বাহ্ণ

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত–১–এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী। তিনিই পরীমনির জামিন চেয়ে শুনানি করেন। আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকায় জামিনের আদেশ দেন বলে জানান সুরভী।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে আত্মসমর্পণ করতে ঢাকার আদালতে আসেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। আগের দিন একই আদালত পরীমনির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। সেদিন মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ছিল। তবে পরীমনি আদালতে হাজির হননি। তার পক্ষে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী সময়ের আবেদন করেন। এতে বলা হয়, অ্যালার্জি জনিত কারণে পরীমনি অসুস্থ। এ কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। তবে আসামিপক্ষের আবেদনে আপত্তি জানিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে না এসে সময়ের আবেদন দাখিল করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।

পরে আদালত সময়ের আবেদন নাকচ করে জামিন বাতিল করে পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে আগামী ২৩ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন।

মোবাইল কেড়ে নিয়ে গালিগালাজ পরীমনির : আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়ে বের হওয়ার সময় এক সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিয়ে গালিগালাজ করেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। এদিকে, পরীমনির সঙ্গে আসা তার নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কায় মাথা ফেটেছে আদালতে আসা এক বিচারপ্রার্থীর।

বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এসব ঘটনা ঘটে। এদিন পরীমনির আদালতে আসাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে গাড়িতেই বসে ছিলেন পরীমনি। তাকে ঘিরে রাখেন তার নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীরা। আশপাশ দিয়ে মানুষের চলাচলও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করেন তারা। কালো পোশাক পরিহিত ১১ জন নিরাপত্তারক্ষী এবং সাধারণ পোশাকে আরও কয়েকজনকে তাকে ঘিরে রাখতে দেখা যায়।

এদিকে, পরীমনি আত্মসমর্পণ করবেন জেনে অনেক সাংবাদিক আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় জমান। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের উদ্দেশে রওনা হন পরীমনি। তার নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে ঘিরে এজলাসে নিয়ে যান। এ সময় সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও করতে গেলে ধাক্কাধাক্কি করেন তার নিরাপত্তারক্ষীরা। লিফটে ওঠার সময় ভিডিও করতে গেলে সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মোবাইল কেড়ে নেন পরীমনি। পরে রবিউল হোসাইন টান দিয়ে মোবাইল ফিরিয়ে নেন।

ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত–১–এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমানের আদালতে যান পরীমনি। পরে শুনানি শুরু হয়। আদালতের বেঞ্চে বসে থাকা পরীমনি আসামির কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়ান। তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিনের আদেশ দেন।

জামিন নিয়ে আদালত থেকে বের হওয়ার সময়ও পরীমনিকে ঘিরে রাখেন তার নিরাপত্তারক্ষীরা। সাংবাদিকরা ছবি তুলতে ও ভিডিও করতে গেলে ধাক্কাধাক্কি করেন তারা। তাদের ধাক্কায় আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা সুজন চন্দ্র মনি দাস নামে এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যায়। তার মাথা থেকে রক্তক্ষরণ হতে দেখা যায়। সুজন চন্দ্র মনি দাসের ভাই বলেন, আমরা আদালতে এসেছিলাম। এখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। নায়িকা পরীমনির নিরাপত্তারক্ষীরা ধাক্কা দিয়ে আমার ভাইয়ের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।

এদিকে, নিচে এসে গাড়িতে ওঠার আগে সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনকে দেখে তেড়ে যান পরীমনি। এ সময় সাংবাদিকদের গালিগালাজ করেন তিনি। পরে আদালত প্রাঙ্গণ ছাড়েন তিনি। পরীমনির নিরাপত্তারক্ষীরা আরও অনেক সাংবাদিককে ধাক্কা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএনসিপি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ
পরবর্তী নিবন্ধঅ্যালুমিনিয়ামের রান্নার পাত্র থেকে খাবারে মিশছে বিষাক্ত সীসা : গবেষণা