টেকনাফে যৌথবাহিনীর অভিযানে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের মরদেহ নিজ জেলা ফরিদপুরে পৌঁছেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে তাঁর মরদেহ নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে আনা হয়।
আইএসপিআর থেকে জানানো হয়, পদা সেনানিবাসের ১৫ আর–ই রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের মেজর সোহেলের নেতৃত্বে সেনাসদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে সামরিক আনুষ্ঠানিকতায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর মরদেহ নেওয়া হয় নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে তাঁর নিজ বাড়িতে।
তিতাসের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর শোকের মাতম শুরু হয়। ছেলেকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন মা রেখা বেগম। স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার। অন্যদিকে সন্তান হারানোর বেদনায় নির্বাক বাবা আফজাল শেখ। তাঁদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ। শেষবারের মতো তিতাসকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন তিতাস। এ সময় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি তাঁর বুকের বাঁ পাশে লাগে। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে প্রথমে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। তিতাস বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য ছিলেন। তিনি টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিতাস ছিলেন সবার বড়। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন তিনি। তাঁর বাবা আফজাল শেখও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য। ছোট ভাই আকরাম হোসেন বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত। চার বছর আগে পাশের গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় তিতাসের। তাঁদের কোনো সন্তান নেই। আগামী ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সেই অপেক্ষায় থাকা সুমাইয়ার কাছে এখন স্বামীর স্মৃতিই শেষ সম্বল।
তিতাসের মা রেখা বেগমের সঙ্গে তাঁর শেষ ফোনালাপও এখন পরিবারের কাছে গভীর বেদনার স্মৃতি। বুধবার রাতে মাকে ফোন করে পরদিন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে যাওয়ার কথা জানিয়ে দোয়া চেয়েছিলেন তিনি। সেটিই ছিল মায়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা।
সেনাসদস্য তিতাস শেখের মৃত্যুতে আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। শোকবার্তায় বলা হয়, দেশমাতৃকার সেবায় কর্তব্যরত অবস্থায় এই তরুণ সেনাসদস্যের আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। একই সঙ্গে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে সেনাবাহিনী।








