পেকুয়ায় দুই যুগেও সংস্কার হয়নি নন্দীরপাড়া স্টেশন সড়ক

দেলওয়ার হোসাইন, পেকুয়া | শনিবার , ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১১:১১ পূর্বাহ্ণ

দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে উন্নয়ন ও সংস্কারের অপেক্ষায় পড়ে আছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম নন্দীরপাড়া স্টেশন সড়ক। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা ও পানিতে একাকার হয়ে যায় সড়কটি। এতে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি পায়ে হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পশ্চিম নন্দীরপাড়া স্টেশন থেকে নন্দীরপাড়া চৌমুহনী স্টেশন পর্যন্ত সড়কটি ২০০২ সালে ইট দিয়ে উন্নয়ন করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সড়কটির আর কোনো স্থায়ী সংস্কার হয়নি। বর্তমানে পুরোনো ইট উঠে গিয়ে সড়কের অধিকাংশ অংশই নষ্ট হয়ে গেছে।

সড়কটি শুধু স্থানীয়দের চলাচলের পথ নয়, আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। পশ্চিম নন্দীরপাড়া স্টেশন থেকে নন্দীরপাড়া চৌমুহনী হয়ে পূর্ববিহাসুরা, মইয়াদিয়া ও বটতলীয়াপাড়া হয়ে মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি চকরিয়া ও মাতামুহুরী এলাকাতেও যাতায়াতের ক্ষেত্রে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিদিন কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। বড় কবরস্থান, মেহেরনামা উচ্চ বিদ্যালয়, বাঘগুজারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলমাছিয়া দাখিল মাদরাসা, মাজেদা খাতুন মহিলা মাদরাসা, মহিলা হেফজখানা ও বাঘগুজারা বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব রয়েছে। সড়কটির উন্নয়নের দাবিতে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও পশ্চিম নন্দীরপাড়ার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট জাহেদ হাসান। তিনি বলেন, “দীর্ঘ দুই যুগ ধরে সড়কটির কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। বর্ষাকালে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। সড়কটির টেকসই উন্নয়নের জন্য আমরা আবেদন করেছি। দ্রুত এর উন্নয়ন হবে বলে আশা করছি।”

স্থানীয় তাঁতীদল নেতা দিদারুল ইসলাম বলেন, “প্রায় ৬ হাজার মানুষ এ এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি নষ্ট থাকায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সড়কটির সংস্কার প্রয়োজন।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী নওশেদ হাসান ও কামাল হোসেন বলেন, “একসময় সড়কটি ইট বিছানো ছিল। এখন ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত হয়েছে। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়।” ইউপি সদস্য আবু ছালেক বলেন, “সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত কষ্ট পাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সমস্যা দিন দিন বাড়ছে।” এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটির জরুরি সংস্কারের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআল মদিনা কাদেরীয়া সুন্নীয়া মডেল মাদরাসা ঈদে মিলাদুন্নবী মাহফিল
পরবর্তী নিবন্ধনানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী উদযাপন