কালুরঘাট রেল–কাম সড়ক সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরামর্শক (কনসালটেন্ট) নিয়োগে এখনো দক্ষিণ কোরিয়ার দাতা সংস্থার (ঋণ সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান) অনুমোদন পাওয়া যায়নি। তবে রেলওয়ের এ প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী জানান, আগামী ডিসেম্বরে পরামর্শক নিয়োগ হতে পারে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ডিটেইল ডিজাইনের পর টেন্ডার আহ্বান করা হবে।
জানা গেছে, সেতুর ডিটেইল ডিজাইনসহ (চূড়ান্ত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রকৌশল নকশা) যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক বছর সময় লাগবে। সেতুর প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর থেকে জানা গেছে, পরামর্শক নিয়োগের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার ঋণ সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ১৫ মাস আগে ৫টি প্রতিষ্ঠানের একটি শর্ট লিস্ট পাঠানো হয়েছিল। এই ৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে একটি প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার ঋণ সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এখনো পর্যন্ত পরামর্শক নিয়োগের অনুমোদন পাওয়া যায়নি।
রেল ভবনের এক কর্মকর্তা জানান, এই প্রকল্পের ঋণচুক্তির শর্তসাপেক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার পরামর্শক নিয়োগ দিতে হবে। সেতুর প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর থেকে গত বছরের ১৭ মার্চ (কনসালটেন্ট) পরামর্শক নিয়োগের আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করেছিল।
এ ব্যাপারে সেতুর প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মুহম্মদ আবুল কালাম চৌধুরী আজাদীকে বলেন, পরামর্শক নিয়োগ এখনো হয়নি। ডিসেম্বর নাগাদ নিয়োগ হতে পারে। ডিসেম্বরে পরামর্শক নিয়োগ হলে তারপর তারা সেতুর ডিটেইল ডিজাইনসহ অন্যান্য কাজ শুরু করবেন। আমরা কোরিয়ান দাতা সংস্থার কাছে পরামর্শক নিয়োগের জন্য যে শর্ট লিস্টটা পাঠিয়েছি, তারা ওখান থেকে একজনকে অনুমোদন দেওয়ার জন্য সুপারিশ করবেন। তিনি জানান, বিদেশি দাতা সংস্থার কাজগুলো একটু সময় লাগে। তারা ধীরে সুস্থে সবকিছু বিবেচনা করে কাজ করে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর রেল–কাম সড়ক সেতু নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। গত বছরের ১৪ মে সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তরের স্মারক ফলক উন্মোচন করেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
নতুন কালুরঘাট সেতু কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল–কাম সড়ক সেতু, যা দক্ষিণ চট্টগ্রাম এবং পর্যটন নগরী কঙবাজারের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। ১৯৩১ সালে নির্মিত পুরনো ও জরাজীর্ণ কালুরঘাট সেতুর বিকল্প হিসেবে এই মেগা প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে।
মূল প্রকল্পের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ৭০০ মিটার রেল–কাম সড়ক সেতু নির্মাণ। তবে ভায়াডাক্ট (সংযোগ সড়ক) ও অন্যান্য অবকাঠামোসহ প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৬ দশমিক ২০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ, ২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার সড়ক ভায়াডাক্ট, ৪ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার বাঁধ। সেতুটিতে নদীর অভ্যন্তরে পাঁচটিসহ মোট সাতটি স্প্যান থাকবে।
সেতুটি প্রায় ১০০ ফুট চওড়া হবে। এতে দুটি ডুয়েলগেজ রেললাইন এবং সম্পূর্ণ আলাদা দুই লেনের সড়ক থাকবে, যাতে একইসাথে ট্রেন এবং গাড়ি নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। পথচারীদের পারাপারের জন্য দুপাশে ৫ ফুটের সার্ভিস লেনও থাকবে।
প্রকল্প কর্মকর্তার দপ্তর থেকে জানা গেছে, প্রকল্পের ১১ হাজার ৫৬০ কোটি ৭৭ লাখ টাকার মধ্যে মূল সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে ৭ হাজার ১২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। মূল সেতু নির্মাণে জন্য ৭ হাজার ১২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) এবং ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট প্রমোশন ফ্যাসিলিটি (ইডিপিএফ)। অবশিষ্ট ৪ হাজার ৪৩৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা বাংলাদেশ সরকারের। ভূমি অধিগ্রহণ থেকে ভ্যাট–ট্যাঙ এবং প্রকল্প কর্মকর্তাদের ব্যয় সরকারি অর্থায়নে হবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।












