জঙ্গল সলিমপুরে অবকাঠামোগত উন্নয়নে বড় উদ্যোগ

চারটি সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ৬ জুন, ২০২৬ at ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ

দেশের আলোচিত ও অপরাধপ্রবণ জনপদ এবং সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যখ্যাত সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অবকাঠামোগত উন্নয়নে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দুর্গম, অপরিকল্পিত বসতি, ভূমি দখল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এলাকাটিতে চারটি সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় জরুরি ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করে সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট। প্রাথমিক পর্যায়ে চারটি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছিন্নমূল এলাকা থেকে আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত একটি সড়ক, আলীনগরটেঙটাইল হয়ে ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত একটি সড়ক, আলীনগর থেকে বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির (বিএমএ) পাশ দিয়ে ভাটিয়ারীবালুচড়া লিংক রোড হয়ে চট্টগ্রামখাগড়াছড়ি মহাসড়কে সংযুক্ত একটি সড়ক এবং জঙ্গল সলিমপুরের অভ্যন্তরে আরো একটি সড়ক নির্মাণ করা হবে। সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের চূড়ান্ত বাজেট এখনো নির্ধারণ হয়নি। তবে দুর্গম, পাহাড়ি ও চ্যালেঞ্জিং এলাকায় সড়ক নির্মাণে সেনাবাহিনীর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গল সলিমপুরে পর্যাপ্ত সড়ক যোগাযোগ না থাকায় বছরের পর বছর সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও ভূমিদস্যুরা সুবিধা পেয়ে এসেছে। দুর্গম পাহাড়ি পথের কারণে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর নিয়মিত অভিযান পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। নতুন সড়কগুলো নির্মিত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ও নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, এলাকাটির প্রধান সমস্যা ছিল যোগাযোগব্যবস্থা। পর্যাপ্ত সড়ক না থাকায় অনেক সময় দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হতো না। সড়ক নির্মাণ হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সরাসরি উপকৃত হবে। উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকে আলী আক্কাস নামে এক সন্ত্রাসী পাহাড়ি খাস জমি দখল করে সেখানে অবৈধ বসতি স্থাপন শুরু করেন। পরে ‘ছিন্নমূল পুনর্বাসন’ প্রকল্পের নামে বিভিন্ন এলাকার বাস্তুচ্যুত ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে প্লট বিক্রি করে গড়ে ওঠে অনিয়ন্ত্রিত বিশাল জনবসতি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এলাকাটি ভূমি বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসনবহির্ভূত প্রভাব বলয়ের জন্য পরিচিত হয়ে ওঠে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গল সলিমপুরে একাধিক অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার এবং সরকারি জমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেয়। পাশাপাশি ভূমি ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

স্থানীয়দের মতে, সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হলে জঙ্গল সলিমপুরের দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা অনেকটাই দূর হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসাবাণিজ্য ও জরুরি সেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়ার পাশাপাশি এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তারা বলেছেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ নয়, জঙ্গল সলিমপুরকে মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করতে টেকসই সড়ক যোগাযোগই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। সেনাবাহিনীর চলমান এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জনপদটির চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপরামর্শক নিয়োগে এখনো মেলেনি দাতা সংস্থার অনুমোদন
পরবর্তী নিবন্ধআরো ৫ শিশুর মৃত্যু