জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও সুষ্ঠু যান চলাচলের সুবিধার্থে নগরের কালুরঘাট সেতু মেরামত ও সংস্কারের অনুরোধ জানিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের নির্বাহী পরিচালক বরাবর গত ১৯ জুলাই পৃথক আবেদন করেন চট্টগ্রামের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ফয়সাল দস্তগীর। পরবর্তীতে তিনি উচ্চ আদালতেও এ বিষয়ে একটি রিট করেন। গতকাল সোমবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারার আদালতে ওই রিটের শুনানি হয়। শুনানি শেষে বিচারপতিগণ দুই মাসের মধ্যে কালুরঘাট সেতু মেরামত ও সংস্কারের আবেদনটি নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা দিয়ে রুল জারি করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ফয়সাল দস্তগীর আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রামের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কালুরঘাট সেতু। জনস্বার্থে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের নির্বাহী পরিচালক বরাবর এটা সংস্কারে আবেদন করি। কিন্তু ফলপ্রসূ হয়নি। এখন যেহেতু উচ্চ আদালত নির্দেশনা দিয়েছে তাই আশা করছি এবার কালুরঘাট সেতুর মেরামতের বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে। আসলে কালুরঘাট সেতু নিয়ে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ কেবল জননিরাপত্তাই বৃদ্ধি করবে না, বরং সুষ্ঠু যান চলাচল নিশ্চিত করবে, যাতায়াতের সময় কমাবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করবে এবং চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।
এদিকে ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর রিট পিটিশনে উল্লেখ করেন, কালুরঘাট সেতু মেরামত ও সংস্কারের অনুরোধ জানিয়ে আবেদন জমা দিলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। আবেদনে বলা হয়, কালুরঘাট সেতুটি একটি একমুখী সেতু এবং এটি একই সাথে রেলপথ, সড়কপথ ও পথচারীদের হাঁটার পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে যখন কোনো ট্রেন আসে, তখন উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া, একদিকে গাড়ি চলাচলের জন্য খোলা হলে অন্যদিকে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়, যার দরুন সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে। অতএব, জনস্বার্থ ও জননিরাপত্তার স্বার্থে এবং সুবিচারের নিমিত্তে সেতুটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা আবশ্যক।
এদিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের নির্বাহী পরিচালক বরাবর দেয়া আবেদনে তিনি বলেন, কালুরঘাট সেতুটি অত্যন্ত পুরোনো হয়ে পড়েছে এবং এর জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার, কাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়ন প্রয়োজন। বর্তমান অবস্থার কারণে সেতুটি তীব্র যানজট, দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রতিদিন এর ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার যাত্রীর ভোগান্তির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে সৃষ্ট যানজট সাধারণ মানুষ, জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থা, বাণিজ্যিক পরিবহন, শিক্ষার্থী এবং অফিসগামী যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচলে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এছাড়া, অবকাঠামোর এই জরাজীর্ণ অবস্থা।
আবেদনে দাবি করা হয়, জননিরাপত্তা এবং সেতুর দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিয়েও উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। শহরের পরিবহন ব্যবস্থায় এই সেতুর কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করে সেতুটির কাঠামোগত অবস্থার একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত পরিদর্শন বা পরীক্ষা করা হয়। একইসঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু করা ও যানবাহনের ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দেওয়ার লক্ষ্যে কারিগরিভাবে সম্ভব হলে সেতুটি প্রশস্ত বা উন্নত করার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়।











