তোমার আব্বু অসুস্থ, তোমাকে নিতে এসেছি’ বলে সহপাঠীদের সামনে থেকে রাঙ্গুনিয়ায় দিনদুপুরে অপহৃত হয়েছে একটি শিশু। তার নাম ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭)। সে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সরফভাটা হাফেজ মোহাম্মদ শরীফের বাড়ি এলাকার দেলোয়ার হোসেনের কন্যা এবং স্থানীয় ‘ইমাম আযম আবু হানিফা (র.)’ স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী।
গত সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় স্কুল ছুটি হওয়ার পর সহপাঠী হুমায়রা এবং আরও এক আত্মীয় শিশুর সঙ্গে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল তাসকিন। বাড়ির সামনের গলির পরানি বাপের বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা একটি সিএনজিচালিত টেক্সি থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তার বাবার অসুস্থতার মিথ্যা কথা বলে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে চম্পট দেয়। গতকাল মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে নিখোঁজ তাসকিনের পরিবার ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে নানা তথ্য পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে ওই এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছিল টেক্সিটি। সিএনজির ভেতরে দুইজন যাত্রী এবং চালকের আসনে সাদা লুঙ্গি পরিহিত এক ব্যক্তি ছিল। তাসকিনকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরপরই তার সাথে থাকা শিশু হুমায়রা ও অপর শিশু দৌড়ে গিয়ে তাসকিনের মা তাসলিমা বেগমকে বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে ঘরে থাকা বাবা দেলোয়ার হোসেন চারদিকে আকুল হয়ে খোঁজাখুঁজি করেও মেয়ের কোনো সন্ধান পাননি।
অপহরণকারীরা সুপরিকল্পিতভাবে শিশুটির নাম এবং তার পরিবারের তথ্য জেনে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে সন্দেহভাজন অটোরিকশাটির চলাচলের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
শিশুটির মা তাসলিমা বেগম বলেন, পারিবারিক ঝামেলা থাকলেও স্থানীয় কারও সাথে আমাদের কোনো শত্রুতা ছিল না। আমার নিষ্পাপ দুধের শিশুকে যেন সুস্থ অবস্থায় বুকে ফিরে পাই, সবার কাছে এই আকুতি জানাচ্ছি।
ইমাম আযম আবু হানিফা (র.) স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছার জানান, স্কুল ছুটির পর তাসকিন স্বাভাবিকভাবেই বাড়ির উদ্দেশ্যে
রওনা হয়েছিল। সহপাঠীদের চোখের সামনেই তাকে এভাবে তুলে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণ মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শিশুটিকে দ্রুত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।












