সুপেয় পানি পৌঁছাচ্ছে দুর্গম পাহাড়ি পল্লীতে

বান্দরবান প্রতিনিধি | শনিবার , ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:৩০ পূর্বাহ্ণ

বান্দরবানে পাহাড়ি পল্লীগুলোতে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে নেওয়া প্রকল্পগুলোর সুফল পাচ্ছেন পাড়াবাসীরা। পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষ এখন ঘরের দুয়ারেই পাচ্ছেন স্বচ্ছ পানি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়িত গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস), রিংওয়েল, গভীর নলকূপসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির সমন্বয়ে দুর্গম এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে টেকসই পানি সরবরাহব্যবস্থা। এতে সুপেয় পানি পাচ্ছেন পাড়াবাসী। জেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদে পানির জন্য কয়েক কিলোমিটার দূরে এবং পাহাড়ের কয়েক শ ফুট নিচে পাহাড়ি ছড়াকুয়া থেকে পানি সংগ্রহের দুর্ভোগের চিত্রটা কিছুটা হলেও বদলাতে শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে দুই অর্থ বছরে ৪৫ কোটি টাকা ব্যায়ে বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলার ৮৫টি পাড়ায় ১২টি গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস) সংস্কার, ১০টি জিএফএস নির্মাণ, ৫৮৩টি রিংওয়েল স্থাপন, ৮৫টি প্রোডাকশন টিউবওয়েল, ৩০টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ১৪০টি রেইন হারবেস্টিং প্রজেক্ট নির্মাণসহ জেলায় আরও বেশকিছু প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।

সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জেলা সদরের রোয়াজা পাড়া, তালুকদার পাড়া, যৌথ খামার এলাকা, টিএন্ডটি পাড়া, হাফেজঘোনা, সিদ্দিক নগর, গোয়ালিয়া খোলা, সুয়ালক ও হলুদিয়া এলাকাবাসী ঘুরের দুয়ারেই সুপেয় পানি সরবরাহ হচ্ছে গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস), রিংওয়েল, গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে।

স্থানীয় বাসিন্দা হ্নাক্রা মারমা ও ইয়নু মারমা বলেন, পাহাড়ে পানির কষ্ট ছিলো রীতিমতো সংগ্রামের মত। আগে পাহাড়ের নিচ থেকে পানি সংগ্রহে দিনের অর্ধেক সময় চলে যেতো। তবে পরিস্থিতি বদলেছে সরকারের পানির সংকট নেয়া প্রকল্পে। পানি সহজলভ্য হওয়ায় নারীরা সন্তানদের পড়াশোনা এবং পরিবারের বাড়তি আয়ে হস্তশিল্পের মাধ্যমে অংশীদার হয়ে উঠেছে।

তালুকদারপাড়া বৌদ্ধবিহারের সভাপতি সিংয় ইউ মারমা বলেন, পাহাড়ি গ্রামের পানি সংকট নিরসনে সরকারের নেওয়া বাস্তবসম্মত পদক্ষেপগুলোতে অন্তত ৫০টি গ্রামের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। আগে যেখানে এক কলসি পানির জন্য পাড়াবাসীকে দূরদূরান্তে ছুটতে হতো, সেখানে ঘরের কাছেই মিলছে খাবার ও ব্যবহারের পরিষ্কার পানি। পাড়াবাসীকে পানি অপচয় রোধ এবং সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত স্থাপনাগুলোর যত্নে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী সাইদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলার অন্তত ৫০টি পাড়ায় নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত প্রকল্পের সুফল ভোগ করছে গ্রামবাসীরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে জানান, দুবছর মেয়াদি ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলার দুর্গম এলাকায় পুরোনো গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম মেরামত এবং নতুন জিএফএস, রিংওয়েল, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম, গভীর নলকূপ এবং পাড়াভিত্তিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত ৫০টি পাড়ার মানুষ সুবিধা পাচ্ছেন। প্রকল্পের মূল কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পানির সংকট নিরসনে জেলার সাতটি উপজেলায় সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধছুটির দিনে কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকের ভিড়