ড্রোন হামলার জবাবে আফগানিস্তানে বিমান হামলা পাকিস্তানের

| শুক্রবার , ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ

আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এসব স্থান ড্রোন সংরক্ষণ করতে ও ছুড়তে ব্যবহার করা হয় বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, আফগানিস্তান বুধবার কিছু ড্রোন দিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে। এক্সে তিনি বলেছেন, আফগান ভূখণ্ড থেকে ছোড়া ড্রোনগুলো শনাক্ত করে পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। কোনো লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই ড্রোনগুলোকে অনুসরণ করে নিষ্ক্রিয় করা হয়। তিনি জানান, এরপর পাকিস্তান প্রতিবেশী দেশটির ১০টি অবস্থানে বিমান ও ড্রোন যোগে সুনির্দিষ্ট আঘাত হানে। আঘাতগুলো শনাক্ত করা সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তারার বলেন, আফগান তালেবানদের যে কোনো উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের কঠোর ও দৃঢ় জবাব দেওয়া হবে। আফগানিস্তানের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত প্রদেশের গভর্নর মুস্তাগফির গুরবাজ জানিয়েছেন, খোস্তের বেশ কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। এক সময়ের মিত্র থেকে শত্রুতে পরিণত হওয়া পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সমপ্রতি এক জঙ্গি হামলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। গত শুক্রবার পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশের এক পুলিশ লাইনে বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি নিয়ে চালানো ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়। এ ঘটনার জেরে আফগানিস্তানে বিমান হামলা চলায় ইসলামাবাদ। এতে তিনজন নিহত ও আরও চারজন আহত হয় বলে কাবুল জানায়। তারা এ হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার প্রত্যয় জানায়। এরপর বুধবার আফগান ড্রোনগুলো পাকিস্তানের হামলার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ ইসলামাবাদের। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ফেব্রুয়ারি থেকে সম্পর্ক নাজুক হয়ে আছে। ওই সময় দুইপক্ষ কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ায়। তারপর থেকে অনেকগুলো প্রাণঘাতী হামলা, পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটলেও গত প্রায় তিন মাস ধরে পরিস্থিতি অপেক্ষাকৃত শান্ত ছিল। এর আগে মার্চে কাবুলে পাকিস্তানের এক বিমান হামলায় ৪০০ জনেরও বেশি আফগান নিহত হয়েছিল। একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র লক্ষ্য করে পাকিস্তানি বাহিনী ওই বিমান হামলা চালায় বলে আফগানিস্তানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা নিয়েই দুই দেশের বিরোধের সূত্রপাত। ইসলামাবাদের অভিযোগ, কাবুলের আশ্রয়–প্রশ্রয়ে থাকা জঙ্গিরা আফগানিস্তানের ভূখণ্ড থেকে সীমান্ত পেরিয়ে এসে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জঙ্গিবাদ পাকিস্তানের ‘অভ্যন্তরীণ সমস্যা’ বলে দাবি করে আসছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমরলেও বাস থামাব না ভারতে চালকের অবহেলায় ৯ প্রাণহানি
পরবর্তী নিবন্ধতীব্র আর্থিক চাপে আরও কর্মী ছাঁটাই করছে বিবিসি