ডবলমুরিংয়ের সাবেক ওসি রফিকুল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ৬ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:২৯ পূর্বাহ্ণ

ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ডবলমুরিং থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী আরাবীয়া সুলতানার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন বাদী হয়ে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এ এই মামলা দুটি দায়ের করেন। মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বর্তমানে রেঞ্জ ডিআইজ কার্যালয়, চট্টগ্রামে পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত আছেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজানের মধ্যম কদলপুর এলাকায়।

দুদক জানায়, পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ২ কোটি ৩৭ লাখ ৫৮ হাজার ২৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ৪১ লাখ ২৯ হাজার ৮৯৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। মামলার এজহারে বলা হয়, রফিকুল ইসলাম দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে মোট ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৯৪ হাজার ৫৭৫ টাকার সম্পদ প্রদর্শন করলেও যাচাই–বাছাইয়ে তার নামে ৪ কোটি ৭৭ লাখ ২৪ হাজার ৪৭১ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। সেইক্ষেত্রে তিনি ৪১ লাখ ২৯ হাজার ৮৯৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। দুদক আরো জানায়, পারিবারিক ব্যয়সহ রফিকুল ইসলামের মোট অর্জিত সম্পদের মূল্য ৫ কোটি ২৬ লাখ ৮২ হাজার ৭৯৭ টাকা। এরমধ্যে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ২ কোটি ৮৯ লাখ ২৪ হাজার ৫৫৮ টাকা। বাদবাকী ২ কোটি ৩৭ লাখ ৫৮ হাজার ২৩৯ টাকার সম্পদ তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত। অর্থাৎ তিনি ২ কোটি ৩৭ লাখ ৫৮ হাজার ২৩৯ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূতবাবে অর্জন করেছেন। দুদকসূত্র আরো জানায়, পুলিশ কর্মকর্তা রফিকুলের স্ত্রী আরাবীয়া সুলতানার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ১ কোটি ৭০ লাখ ৬৮ হাজার ৫৪৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১৮ লাখ ৭৩ হাজার ৩১৯ টাকার সম্পদ অর্জনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, আরাবীয়া সুলতানার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে বিভিন্ন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি মিলিয়ে মোট ১ কোটি ৪৮ লাখ ৬১১ টাকার সম্পদ প্রদর্শন করেছিলেন। কিন্তু যাচাইকালে তার নামে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৭৩ হাজার ৯৩০ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। সেইক্ষেত্রে তিনি ১৮ লাখ ৭৩ হাজার ৩১৯ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এজহারে বলা হয়, ১৫ লাখ ৫ হাজার ৭৯০ টাকা মূল্যের পারবিারিকব্যয়সহ আরাবীয়া সুলতানার মোট অর্জিত সম্পদের মূল্য ১ কোটি ৮১ লাখ ৭৯ হাজার ৭২০ টাকা। এরমধ্যে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ১১ লাখ ১১ হাজার ১৭১ টাকা। বাদবাকী ১ কোটি ৭০ লাখ ৬৮ হাজার ৫৪৯ টাকার সম্পদ তিনি জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে অর্জন করেছেন।

দুদকের অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে যে, আরাবীয়া সুলতানার নিজস্ব আয়ের বৈধ কোনো উৎস না থাকায় তার স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ স্ত্রীর নামে রেখে বা বিনিয়োগ করে তাকে সহযোগিতা করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তা রফিকুল ও তার স্ত্রীর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেও মামলার এজহারে উল্লেখ করেন দুদক কর্মকর্তা। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এর উপপরিচালক আল আমিন দৈনিক আজাদীকে মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ‘আমার বুকটা এহন খালি অইয়া গেছে রে’
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম ওয়াসার সাবেক গাড়িচালক ও তার স্ত্রীর তিন বছরের কারাদণ্ড