সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, দেশের অন্যান্য এলাকার মতো এখানকার বাসিন্দাদেরও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধার আওতায় আনা হবে। গতকাল জঙ্গল সলিমপুরে চলমান উন্নয়নকাজ পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আলীনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা বলেন।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, জঙ্গল সলিমপুরকে একসময় ‘স্টেট উইদিন স্টেট’ বলা হতো। গত ৯ মার্চের আগে জায়গাটি সম্পর্কে যে ধারণা প্রচলিত ছিল, এরপর সেই পরিস্থিতি বদলেছে। এখানে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জনজীবন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে ছয়টি সড়কের প্রায় ১৪ কিলোমিটার অংশ নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ কাজ করছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, সড়কগুলোর কাজ শেষ হলে মানুষের চলাচল সহজ ও নিরাপদ হবে। একই সঙ্গে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াও সহজ হবে। জঙ্গল সলিমপুরে ২৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ইতিমধ্যে সম্ভাব্য জায়গা নির্বাচন করা হয়েছে। এদিন জেলা প্রশাসক সেসব জায়গা, নির্মাণাধীন বিজিবি ক্যাম্প ও চলমান উন্নয়নকাজ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনের সময় আলীনগর স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত সমস্যার কথা জেলা প্রশাসককে জানান। জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে শিক্ষক–কর্মচারীদের এক মাসের বেতনের অর্থ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পরবর্তী মাসগুলোর বেতন নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি। প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব সরকারিভাবে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিন দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ১০০টি স্কুল ব্যাগ, ২০০টি গাছের চারা এবং ফুটবল, ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলার সামগ্রী দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে চকলেটও বিতরণ করা হয়।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ, জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন ও সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।










