কর্ণফুলী উপজেলার ফকিরনির হাট রাস্তার মাথা বাজার থেকে খাস কালেকশন আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ইদ্রিস হায়দার নয়নের বিরুদ্ধে। নয়ন বড়উঠান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো. রাশেদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বাজার থেকে অর্থ আদায় করা হলে সরকারি রাজস্ব আদায় ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বাজারের অর্থ সরকারি কোষাগারে যথাযথভাবে জমা হচ্ছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জুলধা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার অরুণ বড়ুয়া জানান, এতদিন ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে বাজারটির খাস কালেকশন আদায় করা হতো। তবে গত রোববার খাস কালেকশন করতে অফিসের একজন কর্মচারী বাজারে গেলে ইদ্রিস হায়দার নয়ন তাকে টাকা তুলতে নিষেধ করেন।
তিনি বলেন, ইদ্রিস হায়দার নয়ন আমাদের স্টাফকে জানান, বাজারটি তিনি উপজেলা থেকে নিয়েছেন। পরে তিনি উপজেলা ইউএনও কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী রাশেদকে ফোনে ধরিয়ে দেন। রাশেদ আমাদের জানান, আপনারা আর বাজারের টাকা তুলবেন না। এখন থেকে ইদ্রিস হায়দার নয়ন বাজারের টাকা তুলবেন। এরপর থেকে আমরা আর বাজারের টাকা তুলিনি।
বিএনপি নেতা ইদ্রিস হায়দার নয়নের দাবি, উপজেলা ইউএনও কার্যালয় থেকে বাজারটির খাস কালেকশনের দায়িত্ব তিনি পেয়েছেন। তার ভাষ্য, প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ দায়িত্ব পালনের জন্য উপজেলা কিংবা ভূমি অফিস থেকে তাকে কোনো লিখিত কাগজপত্র দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
সরকারি হাট–বাজারের ইজারা ও ব্যবস্থাপনা নির্ধারিত আইন ও বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন হওয়ার কথা। আর কোনো বাজার খাস কালেকশনের আওতায় থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্ধারিত পদ্ধতিতে অর্থ আদায় ও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা। ফলে এ বাজারের ক্ষেত্রে কে, কোন আদেশে এবং কী শর্তে অর্থ আদায় করছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে ইউএনও কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো. রাশেদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি প্রায় আধা ঘণ্টা কার্যালয়ের বাইরে ছিলেন বলে অভিযোগ। পরে এসে বিষয়টি জানতে চাইলে রাশেদ বলেন, আপনারা এ বিষয়ে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলেন।
কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, এটি কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। ভূমি অফিসের মাধ্যমে খাস কালেকশন আদায় করা হচ্ছে।
ইউএনওর এ বক্তব্যের সঙ্গে ইদ্রিস হায়দার নয়নের বক্তব্যের ভিন্নতা রয়েছে। নয়নের দাবি, তিনি উপজেলা ইউএনও কার্যালয় থেকে বাজারটির খাস কালেকশনের দায়িত্ব পেয়েছেন।











