নগরীর খুলশীতে বিলাসবহুল বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট এবং লালখান বাজারে বাণিজ্যিক ভবনসহ নানা জায়গায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কক্সবাজারের টেকনাফের বাসিন্দা আনিসুর রহমান প্রকাশ ইয়াহিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ আদেশ দেন। এর আগে ইয়াহিয়া আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়ে আবেদন করলে বিচারক তা নাকচ করে দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি রেজাউল করিম রনি দৈনিক আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গত ১৩ অক্টোবর ইয়াহিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের সমপরিমাণ তথা ১২ কোটি ৫৫ লাখ ১ হাজার ৩৫৩ টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে ১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন একই আদালত। টেকনাফ উপজেলার শাহ পরীর দ্বীপের এই বাসিন্দা তখন কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন না। তিনি পলাতক ছিলেন। এ জন্য তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছিল। উক্ত পরোয়ানামূলেই তিনি আত্মসমর্পণ করেন বলেও জানান পিপি।
আদালত সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের ১৯ নভেম্বর নগরীর খুলশী থানায় এ মামলাটি দায়ের হয়। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–২ এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, নগরীর খুলশীর ৬ নম্বর রোডে আনিসুর রহমান প্রকাশ ইয়াহিয়ার সাড়ে ৪ কোটিরও বেশি মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। কিন্তু তিনি আয়কর বিভাগে তা ঘোষণা করেননি। একই এলাকার ১ নম্বর রোডে তার একটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। যেটির মূল্য সাড়ে ৩ কোটিরও বেশি টাকা। অথচ তিনি আয়কর বিভাগে এর মূল্য দেখিয়েছেন ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এছাড়া লালখান বাজারের এম এম আলী রোডে তার একটি বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে। যেটির মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। এ সম্পদের বিষয়টিও তিনি আয়কর বিভাগে ঘোষণা দেননি। একটি বন্দুক ও একটি পিস্তলের মালিক তিনি। অথচ সে বিষয়েও তিনি আয়কর বিভাগে কোনো ঘোষণা দেননি।
এজাহারে বলা হয়, চট্টগ্রাম নগরীর পাশাপাশি ঢাকায় ফ্ল্যাট ক্রয়, কঙবাজার সদরে আজকের দেশ–বিদেশ পত্রিকার অফিস ক্রয়, টেকনাফে নাফ ভিউ ফিলিং স্টেশন লিজ গ্রহণ, বান্দরবান ও গাজীপুররসহ বিভিন্ন জায়গায় তিনি বহু সম্পদ অর্জন করেছেন। অথচ এসব সম্পদ অর্জনের বিপরীতে বৈধ কোনো আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি। ফলে এসব সম্পদ তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ। সবমিলে আনিসুর রহমান প্রকাশ ইয়াহিয়ার ১২ কোটি ৫৫ লাখ ১ হাজার ৩৫৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেছে। দুদক বরাবর সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে বলা হলেও ইয়াহিয়া তা করেননি বলেও মামলার এজাহারে বলা হয়।












