সীতাকুণ্ডে মডেল থানা পুলিশ ধাওয়া করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ প্রাইভেটকার জব্দ করেছে। এসময় গ্যাস সিলিন্ডার কেটে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব ইয়াবার মূল্য আনুমানিক সাড়ে ৩ কোটি টাকা বলে জানা যায়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের দিকনির্দেশনায় এবং সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মহিনুল ইসলামের নেতৃত্বে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালায়।
এ সময় এক লক্ষ ২৪ হাজার অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক পরিবহণে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করতে সক্ষম হন। গত সোমবার রাত অনুমানিক ১০ টার দিকে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি ইনর্চাজ মো. মহিনুল ইসলাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, কক্সবাজার থেকে একটি প্রাইভেটকার (যার নাম্বার) ঢাকা মেট্রো-গ-৪২-২৫২৮) বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেটের একটি বড় চালান নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
এমন সংবাদের ভিত্তিতে অফিসার ইনচর্জের নের্তৃতে সীতাকুণ্ড থানার একটি চৌকস টিম ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তাৎক্ষণিকভাবে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করেন। পরবর্তীতে এদিন রাত অনুমানিক দেড় টার দিকে সীতাকুণ্ড মডেল থানাধীন বড় দারোগারহাটস্থ হাক্কানী ফিলিং স্টেশন এলাকায় উক্ত রেজিস্ট্রেশন নাম্বার প্লেট যুক্ত প্রাইভেটকারটিকে পুলিশ থামার জন্য সংকেত দিলে তখন সিগন্যাল অমান্য করে দ্রুত গতিতে ঢাকার দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন পুলিশ উক্ত মাদকবাহী প্রাইভেটকারের পিছু নিলে কোনো উপায় না দেখে প্রাইভেটকারের চালক ইউটার্ন নিয়ে উল্টো পথে চট্টগ্রামের দিকে পালাতে থাকে এবং পুলিশ দ্রুত ইউটার্ন নিয়ে তাদের ধাওয়া অব্যাহত রাখে। কিন্তু অভিযানের মুখে টিকতে না পেরে বড় দারোগারহাট মহাসড়কের পাশে প্রাইভেটকারটি থামিয়ে চালকসহ গাড়িতে থাকা আরো কয়েকজন দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে পুলিশ গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় নিয়ে আসে। তবেগতকাল মঙ্গলবার দিনভর সীতাকুণ্ড মডেল থানা চত্বরে উক্ত প্রাইভেটকারটিতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে গাড়ির পেছনের সিটের পেছনে সুকৌশলে ফিট করা একটি কালো রঙের গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে এদিন রাতে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মোঃ রাসেল আহমেদ এর উপস্থিতিতে উক্ত সিলিন্ডারটি কেটে তার ভেতর থেকে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা এক লক্ষ ২৪ হাজার পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
এসময় সাথে ছিলেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম সহ পুলিশের অন্যান্য অফিসারবৃন্দ। এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানান, মাদক কারবারি ও অপরাধীরা যত বড় কৌশলই অবলম্বন করুক না কেন, পুলিশকে ফাঁকি দেওয়াটা সম্ভব নয়। আর এই অভিযান তারই একটি প্রমাণ । পলাতক মাদক কারবারিদের সনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।











