জীবন মানেই দৌড়। স্কুলের দৌড় শেষ করে চাকরির দৌড়, চাকরির দৌড় শেষ করে সংসারের দৌড়। দৌড়াতে দৌড়াতে আমরা ভুলেই যাই–কেন দৌড়াচ্ছি। আমরা বাঁচি গতকালের আফসোসে আর আগামীকালের ভয়ে। ব্যাংকে কত টাকা হলো, ছেলের ভবিষ্যৎ কী হবে, সংসারের বাজার কিভাবে চলবে– এইসব ভাবতে ভাবতে “আজ” নামের সুন্দর দিনটা হাত দিয়েই চলে যায়। তাই আজকের স্লোগান হোক: “শুধু আজকের জন্য বাঁচো”।
গতকালের না পাওয়ার কষ্ট, হতাশার কথা ভাবতে ভাবতে যদি আজকের দিনটাই শেষ হয়ে যায়, তাহলে আজকের দিনটা উপভোগ করা হবে না। তাই গতকালের চিন্তা মাথা থেকে সরিয়ে রাখতে হবে। আবার আগামীকাল বাড়ি হবে, গাড়ি হবে, ব্যবসা বাড়বে, প্রমোশন হবে– এই স্বপ্ন দেখতে দেখতে যদি আজকের দিনটাই ফাঁকা চলে যায়, তাহলে আজকের খাতায় পড়ে থাকবে শূন্য। অথচ আগামীকাল সূর্য উঠবে কিনা তার নিশ্চয়তা কেবল মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমীন জানেন। তাই আগামীকাল নিয়ে দুশ্চিন্তা নয়। আজকের কাজ আজকেই শেষ করতে হবে। আজকে সুযোগটুকু শুধু আছে সামর্থ্য আছে তা দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন উপভোগ করতে হবে। এটা হতাশার কথা নয়। এটা বরং বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় কৌশল।
১. বোঝা হালকা করুন, ২. ছোট সুখগুলোকে ধরুন, ৩. কৃতজ্ঞ হোন, অভিযোগ কমান।
জাতীয় কবি নজরুল বলেছিলেন, ‘চল চল চল, ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল’। সেই মাদলটা কিন্তু আজকেই বাজে। কালকের জন্য থেমে থাকে না।
শেষ কথা : রাতে ঘুমানোর আগে নিজেকে শুধু ৩টা প্রশ্ন করুন: ১. আজ আমি কারো উপকার করেছি কি? ২. আজ আমি কী নতুন শিখেছি? ৩. আজকের জন্য আমি কিসের জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাবো? এই ৩টার উত্তর “হ্যাঁ” হলেই বুঝবেন দিনটা স্বার্থক। আসুন, গতকালের বোঝা নামিয়ে রাখি। আগামীর দুশ্চিন্তা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিই। আর প্রতিজ্ঞা করি– শুধু আজকের জন্য বাঁচবো। সুন্দর করে, মানুষের মতো করে বাঁচবো এবং আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করব।












