রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনাকে ‘জেনোসাইড’ বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। গতকাল সোমবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ মিলে একটি নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। তবে ঘটনার পর এ নিয়ে করা মামলাটির কোনো তদন্তকাজ চালানো হয়নি। খবর বাংলানিউজের।
বহু চেষ্টা করা সত্ত্বেও এই হত্যাকাণ্ডের কোনো তদন্ত বা বিচার পায়নি হেফাজতে ইসলাম। অবশেষে এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আমি ট্রাইবুনালের দায়িত্বভার নেওয়ার পর চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি। দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচারের সম্মুখীন করার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেননা শিশুসহ আলেম–ওলামাদের নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এটি জেনোসাইড ছিল। দেশের ইতিহাসে এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড কখনও ঘটেছে বলে জানা নেই। তিনি বলেন, আমরা মোট ৬১ জন মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের নাম–ঠিকানা শনাক্ত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ (গতকাল) দুটি ঘটনার ওপর আমরা চার্জ দিয়েছি। একটি হলো শাপলা চত্বরে ৫ মে মধ্যরাতে নারকীয় ঘটনায় ৩২ জন শহীদ, আরেকটিতে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জন মানুষকে হত্যা করার ঘটনা আনা হয়। আর এ সবকিছুই জেনোসাইড ছিল। এই দুটি চার্জে আমরা ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছি। তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।










