রাসায়নিক দুর্ঘটনা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় নৌবাহিনী-ফায়ার সার্ভিসের যৌথ মহড়া

চট্টগ্রামের বানৌজা ঈসা

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ১৯ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে রাসায়নিক দুর্ঘটনা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের যৌথ উদ্যোগে একটি ‘সিচুয়েশন্যাল ট্রেনিং এক্সারসাইজ (এসটিএঙ)’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বানৌজা ঈসা খানে নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৪১ জন এবং নৌবাহিনীর ৪৫৫ জন সদস্য অংশ নেন। মহড়ায় রাসায়নিক দুর্ঘটনাজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার বিভিন্ন কৌশল অনুশীলন করা হয়। এর মধ্যে দুর্ঘটনাস্থল নিরাপদ করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ, রাসায়নিক পদার্থের বিস্তার রোধ, আক্রান্ত ও বিপদাপন্ন ব্যক্তিদের উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের বিষয়গুলো ছিল। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমও অনুশীলন করেন অংশগ্রহণকারীরা। মহড়ায় সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত নিরূপণ, উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম সচল রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পারস্পরিক যোগাযোগ, দায়িত্ব বণ্টন এবং সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত রাসায়নিক জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুশীলন করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (বিএনএসিডব্লিউসি) বিভিন্ন অংশীজনের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত ‘বেসিক অ্যাসিসট্যান্স অ্যান্ড প্রোটেকশন কোর্স ফর রেসপন্ডারস (বিএপিসিওআর)’ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। এসব প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার মাধ্যমে রাসায়নিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

চট্টগ্রাম দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ও অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল হওয়ায় বন্দর, জাহাজ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সম্ভাব্য রাসায়নিক দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় এ ধরনের মহড়া গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আন্তঃসংস্থাগত সমন্বয় জোরদার হলে দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রাণহানি, সম্পদ ও পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআল্লামা আজিজুল হক ফরহাদাবাদীর ইন্তেকাল
পরবর্তী নিবন্ধকাল থেকে তিন দিনের বিল্ড এক্সপো শুরু