সাময়িক হিসাবের প্রাক্কলনে বিদায় নিতে চলা ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার আগের বারের চেয়ে খানিকটা বেড়েছে; সেই সঙ্গে মাথাপিছু আয় প্রথমবারের মত ৩ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। সরকারের এই প্রাক্কলন বলছে, চলতি অর্থবছর মোট দেশজ উৎপাদন ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ বাড়তে পারে। গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। খবর বিডিনিউজের।
সাময়িক হিসাবে বিদায়ী আর্থিক বছরে মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে প্রথমবারের মত ৩ হাজার ডলার ছাড়িয়ে ৩ হাজার ২০ ডলারে উঠেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ১৪ পয়সা) যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকার সমান। গত অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২০ টাকা ৮২ পয়সা) ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা। সাময়িক হিসাবে গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। চূড়ান্ত হিসাবে তা দশমিক ৪৮ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে আসে। আর মাথাপিছু আয় ৫১ ডলার কমে ২ হাজার ৭৬৯ ডলারে নেমে আসে। সাময়িক হিসাবে তা ছিল ২ হাজার ৮২০ ডলার। গতকাল বুধবার ২০২৫–২৬ অর্থবছরের মাথাপিছু আয়, জিডিপিসহ অর্থনীতির অন্যান্য সূচকের সাময়িক এই হিসাব প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সাময়িকভাবে প্রাপ্ত তথ্য–উপাত্তের ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিএস।
২০২৫–২৬ অর্থবছর শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে; শেষ হবে ২০২৬ সালের ৩০ জুন। এই আর্থিক বছর শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহ আগে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, জিডিপির আকার ও মাথাপিছু আয়ের চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করল বিবিএস।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাময়িক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে; তবে শিল্প খাতে কমেছে। সাময়িক হিসাবে কৃষি খাতে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে যা ছিল ২ দশমিক ৪২ শতাংশ। সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ হয়েছে। তবে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশে নেমেছে।
মাথাপিছু আয় কী : মাথাপিছু আয় ব্যক্তির একক আয় নয়। দেশের অভ্যন্তরের আয়ের পাশাপাশি প্রবাসী আয়সহ যত আয় হয়, তা একটি দেশের মোট জাতীয় আয়। সেই জাতীয় আয়কে মাথাপিছু ভাগ করে এই হিসাব করা হয়। এটি দেশের মানুষের গড় মাথাপিছু আয়।










