চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক নগরী গড়তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরুর আশ্বাস

| বৃহস্পতিবার , ১১ জুন, ২০২৬ at ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আইনগত, প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, আমদানিরপ্তানির কেন্দ্রবিন্দু এবং শিল্পবাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নগরী। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চট্টগ্রাম বন্দর দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি বলেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। তবে এ ঘোষণার পর এ বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক আদেশ জারি করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সরকার এটিকে আন্তর্জাতিক মানের বাণিজ্যিক রাজধানী এবং কর্মসংস্থানের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে শুধু বন্দর উন্নয়নই যথেষ্ট নয়। অর্থনীতি, অবকাঠামো, নগর ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ পরিবেশ, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সব ক্ষেত্রে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। খবর বাংলানিউজ, বাসস ও বিডিনিউজের।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আইনগত, প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা উন্নয়ন, কাস্টমস ও ডিজিটাল সেবা দ্রুততর করা, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং মাল্টিমোডাল পরিবহন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, নাব্যতা বৃদ্ধি ও পণ্য খালাস কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বন্দর থেকে শিল্পাঞ্চল ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে দ্রুত পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন এবং সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা চালু করা গেলে চট্টগ্রাম বন্দরকে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার পদক্ষেপ : সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত প্রধান পদক্ষেপগুলো হলো, আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রদান করা হচ্ছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য রপ্তানি নীতি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬২০২৯ হালনাগাদকরণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজে বাজারে প্রবেশ করতে পারেন। রপ্তানির উদ্দেশ্যে আমদানির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা দূর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বন্ডেড ও ননবন্ডেড সব প্রতিষ্ঠানকে এফওসি ভিত্তিতে আমদানির সুযোগের আওতা আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।

আমদানি সহজীকরণের লক্ষ্যে মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি সহজ করা হচ্ছে এবং সকল আমদানিকারকের জন্য মূল্যসীমা নির্বিশেষে এলসি ব্যতীত চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ রাখা হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার চুক্তি বাস্তবায়ন ও ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের মাধ্যমে বাণিজ্য প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাণিজ্য সহজীকরণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করবে সরকার। কুমিল্লা৯ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আবুল কালামের সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ সংক্রান্ত এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, এই মহান সংসদকে আমি এতটুকু জানাতে চাই যে, সরকারের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন পদ খালি আছে; যেগুলো আরো গতিশীল করার জন্য, দেশের মানুষকে আরো সহজে সুবিধাজনকভাবে সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কতগুলো নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। তিনি আরো বলেন, যত দ্রুত সম্ভব আমরা এই পোস্টগুলোতে (শূন্যপদ) নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করবো ইনশাআল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তারমধ্যে শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থাসমূহে শূন্য পদের বিপরীতে ২ হাজার ৮৭৯ জন লোক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

৫ জেলায় ‘ইহেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ১৮০ দিনের মধ্যে ৫ জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ইহেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাবনা৫ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ‘ইহেলথ কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই বিষয়ক একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৮০ দিনের মধ্যে ৫টি জেলা যথাক্রমে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদীর জনসাধারণকে ইহেলথ কার্ড সেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। তিনি বলেন, এই ইহেলথ কার্ড ইলেক্ট্রনিক রিফারেল সিস্টেম এবং ইলেক্ট্রনিক পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সাথে সংযুক্ত থাকবে।

বিরোধীদের উন্নয়নকাজ তদারকিতে বিএনপির নারী এমপি প্রসঙ্গে : বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব কেন সংরক্ষিত আসনের সরকারদলীয় নারী এমপিদের দেওয়া হয়েছে, জাতীয় সংসদে তার ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারের যে নিয়ম আছে, সে নিয়ম অনুযায়ীই এগোচ্ছেন তারা।

ঢাকা১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের এক সস্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দল থেকে এবং আপনাদের দল থেকে যে সকল নারী সদস্যকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে কয়েকদিন আগে, সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্টভাবে তাদের কোনো আসন নেই। আপনার বা আমার যে কোন নির্দিষ্ট আসন আছে সেরকম নির্দিষ্ট কোনো আসন তাদের নেই। খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা আমাদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক যে কাঠামো তার ভিত্তিতে আমরা তাদেরকে দলীয় অবস্থান থেকে আমরা কিছু জায়গা তাদের জন্য নির্দিষ্ট করেছি, তারা কোথায় কাজ করবেন। আপনার নির্বাচন এলাকায় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার সম্পূর্ণ হক আছে যে আপনি আপনার এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে কিভাবে ভূমিকা রাখতে চান? যেহেতু এই সংসদ এই নারী নেতৃবৃন্দকে বা নারী সংসদ সদস্যদেরকে নির্বাচিত করেছেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাদেরও একই রকমভাবে হক আছে, একই রকমভাবে হক আছে তার এলাকার বা তার এলাকার মানুষের জন্য।

পূর্ববর্তী নিবন্ধখাল পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণে পৃথক দুটি প্রকল্প নিচ্ছে চসিক
পরবর্তী নিবন্ধমাথাপিছু আয় প্রথমবারের মত ৩ হাজার ডলার ছাড়াল