ভোজ্যতেলে কারসাজি, টিকে গ্রুপকে ৩২ কোটি টাকা জরিমানা

| শুক্রবার , ১২ জুন, ২০২৬ at ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ

ভোজ্যতেল সরবরাহে কারসাজির দায়ে টিকে গ্রুপের মালিকানাধীন শবনম ভেজিটেবিল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিযোগিতা কমিশনের সচিব মাহবুবুর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে অস্বাভাবিকভাবে ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধি ও উৎপাদন, সরবরাহ, বাজার বা সেবার সংস্থানকে সীমিত ও নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগে প্রতিযোগিতা আইন ২০১২এর অধীনে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। খবর বাংলানিউজের।

প্রতিযোগিতা কমিশন জানায়, ২০১২ সালের আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী শবনম ভেজিটেবিল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজকে ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। চূড়ান্ত আদেশ ঘোষণার পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী আপিল বা আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবে।

রায়ের মতামতে বলা হয়, শবনব ভেজিটেবল অয়েল ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ভোজ্যতেল উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত করে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজসে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে।

এ কারণে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। যা ২০১২ সালের প্রতিযোগিতিা আইনের ১৫ ধারার উপধারা () এবং উপধারা () এর দফা (), উপদফা (অ ও দফা () লঙ্খন প্রমাণিত হয়। যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক নিয়োগ আদেশের (() অনুযায়ী সরবরাহ আদেশ সর্বোচ্চ ১৫ দিন হবে। যা কোনোভাবেই সময় বাড়ানো যাবে না। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ সরবরাহ আদেশের বিপরীতে কোনো পণ্য সরবরাহ করা যাবে না। তবে শবনব ভেজিটেবিল অয়েলের বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ সরবরাহ আদেশ (এস ও) সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। এটি প্রতিযোগিতা বিরোধী চুক্তি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ সংকট তৈরি হয়। ওই সময় দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। এ ঘটনায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অনুসন্ধান চালায়। তখন আটটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কৃত্তিম সরবরাহ সংকটের প্রমাণ পায়। সে সময় প্রতিযোগিতা কমিশন তিন সদস্যদের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করে। তারা গ্লোব এডিবল অয়েল লিমিটেড, সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, মেঘনা ও ইউনাইটেড এডিবল অয়েল লিমিটেড, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমেটেড সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কারসাজির প্রাথমিক প্রমাণ পায়। বাজারে সরবরাহ সীমিত করায় প্রতিযোগিতা আইনের তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে কমিশনের নিজস্ব অনুসন্ধান ও ভোক্তা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শবনম ভেজিটেল অয়েলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপতেঙ্গায় ৬ লাখ টাকার লুব অয়েল ও ডিজেল জব্দ
পরবর্তী নিবন্ধনিম্নমানের রং ব্যবহার করে আইসক্রিম তৈরি