ভালো অবস্থানে থেকে দ্বিতীয় দিন পার আফগানদের

আবুধাবি টেস্ট । বাংলাদেশ এগিয়ে ১৩৫ রানে

ক্রীড়া প্রতিবেদক | রবিবার , ১১ অক্টোবর, ২০২৬ at ১১:১২ পূর্বাহ্ণ

আবুধাবিতে বাংলাদেশের চাইতে ভালো অবস্থানে থেকে দ্বিতীয় দিন পার করলো আফগানিস্তান। যদিও বাংলাদেশ আফগানদের বিপক্ষে এগিয়ে আছে এখনো ১৩৫ রানে। একমাত্র টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২১১ রান। ক্রিজে আছেন অধিনায়ক রহমত। টেস্ট মেজাজে খেলে দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। তার সামনে সেঞ্চুরির হাতছানি। একটি ছক্কা ও আটটি চারে ৮৪ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। ২৬ রানে খেলছেন ইকরাম আলিখিল। এর আগে নতুন দিনের প্রথম সেশনে ৯ ওভারের মধ্যে ২৯ রান যোগ করে বাকি ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তাতে তাদের প্রথম ইনিংস থামে ৩৪৬ রানে। আফগানিস্তান ১৩৫ রানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিন শুরু করবে। তীব্র গরমে উইকেটে বোলারদের জন্য তেমন কোনো সুবিধা থাকবে না–এটা জানা ছিল। ম্যাচের দ্বিতীয় দিন সেটি টের পেয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। নতুন বলে কিছু মুভমেন্ট ছাড়া দিনের বাকি অংশে সুবিধা করতে পারেননি কেউই। এর মাঝেও উপভোগ্য ছিল হাসান মাহমুদ ও রহমতের ব্যক্তিগত লড়াই। দিনের খেল শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ বাকি থাকতে পুরোনো বলেই লাইন–লেংথের ওপর দারুণ নিয়ন্ত্রণ রেখে আফগান অধিনায়ককে কিছুটা বিপাকে ফেলেন ছন্দে থাকা পেসার। ৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে দিন শুরু করে বাংলাদেশ। শুরুতে লড়াইয়ের আভাস দেন নাঈম হাসান। তবে অন্য প্রান্ত থেকে সমর্থন পাননি। দিনের ষষ্ঠ ওভারে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান তাইজুল ইসলাম। দুই ওভার পর ইবাদত হোসেনও আউট হলে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ৬৭ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন নাঈম হাসান। আফগানিস্তানের হয়ে ৪টি উইকেট নেন মোহাম্মাদ সালিম সাফি। আরেক পেসার ইয়ামিন আহমাদজাই নেন ৩ উইকেট। ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারের প্রথম বলেই হাসানকে বাউন্ডারি মারেন সেদিকউল্লাহ আতাল। ওভারের পঞ্চম বলে কট বিহাইন্ডের জোরাল আবেদন করে বাংলাদেশ। রিভিউ নিয়ে ব্যর্থ হয় তারা। রিপ্লেতে দেখা যায়, পেছনের প্যাড ছুঁয়ে যায় বল। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সেদিকউল্লাহ। হাসানের অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারি দূর থেকে ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে ধরা পড়েন ১৭ রান করা ওপেনার। ৩০ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর প্রতিরোধের চেষ্টা করেন আরেক ওপেনার আব্দুল মালিক ও শাহিদউল্লাহ কামাল। তাদের বেশি দূর যেতে দেননি ইবাদত হোসেন। এতে অবশ্য বড় কৃতিত্ব হাসানেরই। ইবাদতের শর্ট বল দূর থেকে পুল করতে গিয়ে হাওয়ায় ভাসিয়ে দেন কামাল। সামনে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন হাসান মাহমুদ। ৬৪ রানের মধ্যে ২ উইকেট নিয়ে আফগানদের চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন মালিক ও রহমত। চা বিরতি পর্যন্ত আর সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। শেষ সেশনে ফিরে প্রথম ওভারেই বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আভাস দেওয়া জুটি ভাঙেন ইবাদত। হালকা লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারি কাভার ড্রাইভের লোভে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মালিক। তার ব্যাট থেকে আসে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ১২০ বলে ৬২ রান। পরের ওভারে চমৎকার ডেলিভারিতে হাশমাতউল্লাহ শাহিদিকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। রানের খাতা খুলতে পারেননি আফগানদের সাবেক অধিনায়ক। এরপর শুধুই হতাশা। দিনের বাকি ৩২.২ ওভারে কোনো বিপদ ঘটতে দেননি রহমত ও ইকরাম আলি খিল। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে তাদের সংগ্রহ ৭২ রান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমহিলা বিভাগে চট্টগ্রাম তায়কোয়ানডো একাডেমি,পুরুষে সিরাজগঞ্জ চ্যাম্পিয়ন
পরবর্তী নিবন্ধনতুন ধারাবাহিক ‘ফিরে আসার গল্প’