বর্ষাকাল কি বদলে যাচ্ছে? ফসলের ওপর কী প্রভাব

| বৃহস্পতিবার , ২৭ জুলাই, ২০২৩ at ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ

বর্ষায় আকাশে মেঘের দেখা নেই, গরমে পুড়ছে ফসলের মাঠ। বৃষ্টি না হওয়ায় ধানের বীজ ও গাছের চারা লাগানো যাচ্ছে না। এতে সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশের অনেক কৃষক। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরেই বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিপাতের একটা বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অনেক সময় বর্ষার আগেই বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়, আবার বর্ষা বাদ দিয়ে পরে শরৎকালে বৃষ্টি হতে থাকে। কিন্তু এর ফলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে ফসলের ওপর। কারণ চাষাবাদের চক্র বদলে যাচ্ছে।

এজন্য বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু পরিবর্তন, এল নিনো বা লা নিনার প্রভাবকে দায়ী করছেন। পেরু অঞ্চলের সমুদ্রের পানির উষ্ণতা বেড়ে গেলে এল নিনো আর কমে গেলে লা নিনা তৈরি হয়। এর প্রভাব প্রশান্ত বা ভারত মহাসাগরীয় সব দেশের ওপরেই পড়ে। বৃষ্টি কম বা বেশি হওয়া, প্রাণীর জৈববৈচিত্রের ওপরে তার প্রভাব পড়ে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ড. সমরেন্দ্র কর্মকার বলেন, এটাকে আমরা সাধারণত বলে থাকি, ভেরিয়াবিলিটি অব মনসুন। এল নিনো বা লা নিনার প্রভাবে এটা হয়ে থাকে। এই বছর এল নিনো হচ্ছে। সেরকম হলে সাধারণত বৃষ্টিপাত কম হয়। কিন্তু যেখানে হবে, সেখানে অতি বৃষ্টি বা বন্যা হয়ে যায়। যেমন আমাদের এখানে বৃষ্টি কম হলেও গুজরাটে বা পাকিস্তানে অনেক বৃষ্টি হচ্ছে। খবর বিবিসি বাংলার।

যে মৌসুমি বায়ুর কারণে বৃষ্টি হয়ে থাকে, সেটা অনেক সময় উত্তর বা দক্ষিণে অবস্থান নিয়ে থাকে। এটা যদি দক্ষিণ দিকে বেশি সময় থাকে, তাহলে বাংলাদেশ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম হয়। আবার উত্তর অঞ্চলে থাকলে হিমালয়ের পাদদেশ এলাকায় বৃষ্টিপাত বেশি হয়, যার ফলে অনেক সময় নদীগুলো উপচে উজানে বন্যা দেখা দেয়।

তিনি বলেন, বর্ষাকালের এই পরিবর্তন ২০০৩ সাল থেকেই পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি। যে অ্যাক্সেসে মনসুন সিস্টেম থাকে, সেটা দক্ষিণ দিকে এক থেকে দুই ডিগ্রি সরে গেছে। এর ফলে আমাদের এলাকায় বর্ষাকালে বৃষ্টির হার কমে গেছে।

ঠিক সময়ে ধানের চারা রোপণ করতে না পারলে উৎপাদন যেমন ক্ষতি হয়, তেমনি পরবর্তী অন্য ফসলের চাষাবাদের ওপরেও তার প্রভাব পড়ে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. পারভেজ আনোয়ার বলেন, বৃষ্টি বা অতি বৃষ্টির প্রভাবে কৃষকরা ঠিক সময়ে ধান বা ফসল লাগাতে না পারলে পরবর্তী ফসল লাগানোও পিছিয়ে যায়। ফলে দেখা যাবে, তার হয়তো একটি ফসল আর লাগাতেই পারবেন না। লম্বা সময় বৃষ্টি না হলে বর্ষাকালীন সব ধরনের ফসলের ওপরেই প্রভাব পড়ছে। কিন্তু এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে শীতকালীন ফসলেরও ওপরেও। ফসল লাগানোর একটা প্যাটার্ন আছে, কোনটার পরে কোনটা লাগানো হবে। এখন দেখা যাচ্ছে, বৃষ্টির প্যাটার্ন পরিবর্তন হয়ে যাওয়ায় সময় মতো ফসল লাগানো যাচ্ছে না। আমন ধান লাগানো পিছিয়ে যাওয়ায় ফসল ঠিক মতো হবে না। চারার বয়স বেশি হয়ে গেলেও ফলন কমবে। আবার দেরিতে লাগানো হলে সেই ফসল উঠবেও দেরি করে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ৫৭.০৬ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন উড়িষ্যা আর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে একটা লগুচাপের তৈরি হওয়ায় সব মেঘ সেখানে চলে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের আকাশ অনেকটা মেঘ শূন্য অবস্থায় থাকছে। তবে আমরা আশা করছি, এই মাসের ২৮/২৯ তারিখের দিকে এই অবস্থার পরিবর্তন হবে। তখন হয়তো দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে বৃষ্টি হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএসআইবিএল-এর ফাইনান্সিয়াল ইনক্লুশন ইনিশিয়েটিভ অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড অর্জন
পরবর্তী নিবন্ধনজমুল হক বাচ্চু