সুমি বেগম। পেশায় একজন পোশাক শ্রমিক। প্রায় ১২ বছর ধরে কাজ করছেন নাসিরাবাদ শিল্প এলাকার একটি কারখানায়। তার স্বামী রুবেল চাকরি করেন অপর একটি পোশাক কারখানায়। দুজনের সংসারে রয়েছে পাঁচ বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান। নাসিরাবাদে একটি ভাড়া বাসায় তিন সদস্যের এই পরিবারের বসবাস। পোশাক শ্রমিক সুমি বেগম জানালেন বিজয় দিবসের ভাবনা।
তিনি বলেন, আমার দেশের পোশাক পৃথিবীজুড়ে রপ্তানি হচ্ছে। সেসব পোশাকে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ স্টিকার লাগানো থাকে। যা দেখলেই গর্বে বুক ভরে উঠে। দেশ স্বাধীন না হলে তো এটা সম্ভব হতো না। পোশাকে যখন এই স্টিকার লাগানো হয় এবং লাগানোর পর যখন হাত দিয়ে স্পর্শ করি, তখন আলাদা একটা আবেগ কাজ করে।
সুমি বেগম বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ায় আজ আমি চাকরি করতে পারছি। নিজের ইচ্ছে মতো সবকিছু করতে পারছি। সন্তানকে মানুষ করার স্বপ্ন দেখতে পারছি। দেশ বিজয় অর্জন করতে না পারলে এতসব স্বপ্ন দেখাতো দূরের কথা, হয়তো ঘর থেকেও বের হতে পারতাম না। তিনি বলেন, দেশে অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। রাস্তাঘাট, ফ্লাইওভার, টানেলসহ কতকিছু যে হয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনেই দেশটা পাল্টে যাচ্ছে। এই পাল্টে যাওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতিটা রোধ করা গেলে বাংলাদেশ সত্যিকারের সোনার বাংলা হয়ে উঠবে।
সুমি বেগম জানান, তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব। অভাবের সংসারে বেড়ে উঠায় তিনি বেশিদূর পড়ালেখা করতে পারেননি। মাধ্যমিকে অধ্যয়নকালেই যোগ দিয়েছিলেন পোশাক কারখানায়। ধীরে ধীরে পদোন্নতি হয়ে তিনি এখন সিনিয়র অপারেটর। স্বামী-স্ত্রী মিলে যা আয় করেন তা দিয়ে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বেশ সুখেই আছেন। তিনি বলেন, অভাবের কারণে নিজে বেশি পড়ালেখা করতে পারিনি। কিন্তু আমাদের সন্তানকে সেই ধরণের অভাবের মুখে পড়তে হবে না। সন্তানকে লেখাপড়া করানোর সক্ষমতা এখন আমাদের আছে। খুব ইচ্ছে ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবো। আশা আছে নতুন বছরে ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করাবো।













