নারীর নিরাপত্তায় মানসিক পরিবর্তনের আশা শুচীর

চবি প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ১৬ ডিসেম্বর, ২০২১ at ৬:৩০ পূর্বাহ্ণ

মাহ্‌জবীন শুচী। পড়ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন এন্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত মানবী হিসেবে তিনি বেশ পরিচিত। এছাড়া নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভলিবল টিমের সক্রিয় সদস্য তিনি। শুচী জানালেন বিজয় দিবস নিয়ে তার ভাবনা।
তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের দূর্গম এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আমরা এখনো মানবিক মানুষ হতে পারিনি। করোনার সময় দেখেছি অনেক চিকিৎসক নিজের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে সেবা দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। যা একজন ডাক্তারের কাছ থেকে কখনোই কাম্য নয়। এছাড়া নৈতিক দিক থেকেও পিছিয়ে রয়েছি আমরা। মাহ্‌জবীন শুচী বলেন, আগের থেকে দেশে শিক্ষার হার অনেক বেড়েছে। বেড়েছে স্বাক্ষরতার হারও। সবাই মৌলিক শিক্ষার যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। প্রায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পাকা বিল্ডিং। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও অনেক এগিয়ে গিয়েছে। বর্তমানে দেশে ৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় করার। এটি একটি ভালো উদ্যোগ। তবে শিক্ষার মান এবং গবেষণা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা, বেকারত্ব সমস্যা তো আছেই। সঠিক কর্মসংস্থানেরও রয়েছে সংকট।
তিনি বলেন, আমাদের নারীরা অনেক এগিয়ে গেছে। সর্বত্র নারীর জয় জয়কার। সব ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। পাশাপাশি নারীরা ক্ষমতায়নের দিক থেকে অনেক এগিয়ে গিয়েছে। দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ খাত, পর্ষদে নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে গ্রামীণ নারীরা এখনো পিছিয়ে। নানা প্রথা আর সামাজিক সংস্কৃতি থেকে নারীরা যেন বের হতে পারছে না। আগের থেকে শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বেশি থাকলেও কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ কম। উচ্চ শিক্ষিত হয়েও গৃহিণী হতে হয় নারীদের।
শুচী বলেন, তবে নারীরা আজও নিরাপদ না। নারীর নিরাপত্তা সমাজ এখনো আমাদের দিতে পারেনি। এখনো আমরা রাস্তায় বের হলে ভয়ে থাকি কখন না জানি ইভটিজিং বা ধর্ষণের শিকার হতে হয়। এক্ষেত্রে আমাদের প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপোশাক শ্রমিক সুমির গর্ব ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’
পরবর্তী নিবন্ধকৃষি বিজ্ঞান পাঠদান আরও আকর্ষণীয় চান নজরুল