কাপ্তাই লেকে পানি পারিমাপের জন্য যেসব মিটার গেজ বসানো হয়েছিল তার সবগুলো এখন পানির উপরে উঠে পড়েছে। লেকে পানির লেভেল অনবরত হ্রাস পাওয়ার ফলে মিটারগেজগুলো বর্তমানে পানির উপরে শোভা পাচ্ছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, পানি পরিমাপের জন্য কাপ্তাই লেক সংলগ্ন তীরে ১০টি মিটারগেজ বসানো রয়েছে। প্রতিটি মিটারগেজে পানি পরিমাপের জন্য ইঞ্চি এবং ফুট চিহ্নিত রয়েছে। বর্তমানে মিটারগেজগুলো পানির উপরে উঠে পড়েছে। লেকে পানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম থাকায় মিটারগেজগুলো শুকনা স্থানে দেখা পাচ্ছে।
সংশ্লিস্ট সূত্র জানায়, কাপ্তাই লেকে পানির লেভেল বর্তমানে ৭৩.৯১ ফুট মীন সী লেভেলে (এমএসএল) নেমে এসেছে। রুলকার্ভ (পানির পরিমাপ) অনুযায়ী এই মুহূর্তে কাপ্তাই লেকে পানি থাকার কথা প্রায় ৭৮ ফুট মীন সী লেভেল। লেকে পানি কম থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনও হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে ২ নং এবং ৩ নং ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সচল রয়েছে। এই ২টি ইউনিট থেকে এই মুহূর্তে ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান কাপ্তাই লেকে পানি কম থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে কাপ্তাই লেকে পানি বৃদ্ধির উপায় নেই। ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় লেকে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে আকাশে কালো মেঘ দেখা গেলেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা মিলছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রুলকার্ভ অনুযায়ী কাপ্তাই লেকে পানির লেভেল থাকলে এখন ৫টি উইনিটের সবগুলো সচল রাখা সম্ভব হতো। আর সবগুলো ইউনিট একযোগে চালু থাকলে ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উপাদন করা সম্ভব হতো।
কাপ্তাই জেটিঘাট যাত্রীবাহী পন্টুনের পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পানি কমে যাওয়ায় শুধু যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ধস নেমেছে তা নয়, নৌ চলাচলেও মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। লেকে পানি কম থাকায় সব জায়গায় ইঞ্জিন বোট চালানো যাচ্ছে না। বিশেষ প্রয়োজনে কেউ কেউ অনেক দূর নৌপথ ঘুরে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে সময় যেমন বেশি লাগছে তেমনি খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
ইঞ্জিন বোট চালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, কাপ্তাই জেটিঘাট থেকে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা, বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি ইত্যাদি উপজেলায় নৌ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। মুষলধারে বৃষ্টি নামার জন্য প্রকৃতির পানে চেয়ে আছি।












