বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্টের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল গতকাল চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন। গতকাল আগ্রাবাদ ওয়াল্ড ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট বলেন, আজকের এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ প্রমোট করা। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা এবং ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা জানতে চাওয়া আজকের এই আলোচনার উদ্দেশ্য।
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা সম্পর্কে জানতে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স এর সাথে যৌথভাবে কাজ করতে পারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার এবং বিডার সাথে কাজ করছে। তিনি যেকোন বিনিয়োগের জন্য ইজ অব ডুয়িং বিজনেস খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
ডেপুটি পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক কাউন্সেলর ডেভিড মু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক বাধা দূর করতে কাজ করছে। বাংলাদেশে অনেক মার্কিন কোম্পানি রয়েছে। আবার অনেক কোম্পানি পণ্য বিক্রয় করতে আগ্রহী। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ যদি ব্যবসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারে তবে উভয়দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বাণিজ্যিক সংযোগ বৃদ্ধি পাবে।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের রয়েছে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারও যুক্তরাষ্ট্র। তাই দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপযুক্ত সময় এখনই। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের করিডোর, এক্সপ্রেসওয়ে, এমআরটি, বন্দর উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়লে উভয় দেশের জন্য লাভজনক হবে। একই সাথে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের ব্যবসা, সামাজিক ও অবকাঠামোগত খাতে অবদান রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন। আমিরুল হক আরো বলেন, উভয়দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। ফ্রি–ট্রেড জোনে বিনিয়োগকারীরা একটি মাত্র ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে কোন ধরণের ঝামেলাবিহীন ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে। বাংলাদেশ কারো কাছে ভিক্ষা চায় না, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চায়। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উইন উইন ভিত্তিতে কাজ করতে চায়, যেখানে উভয়দেশই সমানভাবে লাভবান হবে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভৌগোলিক সুবিধার কথা উল্লেখ করে চেম্বার সভাপতি মাতারবাড়ী ও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর এবং চট্টগ্রামের বে–টার্মিনালের অবকাঠামোগত খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহবান জানান।
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক সিনিয়র সহ–সভাপতি এম. এ. ছালাম, সাবেক সহ–সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, চেম্বার পরিচালক মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, সাবেক পরিচালক এস. এম. আবু তৈয়ব ও রাহবার এ আনোয়ার, ইতালির অনারারী কনসাল মির্জা সালমান ইস্পাহানী, বিএসআরএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীর আলীহুসেইন, দূতাবাসের কমার্শিয়াল স্পেশালিষ্ট আবির বড়ুয়া, এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট তানভীর আহমেদ, পিডব্লিউসি’র এসোসিয়েট ডিরেক্টর (ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন) শাদাব মাহমুদ বক্তব্য রাখেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে চেম্বার সিনিয়র সহ–সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, সিডিএ’র চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, দূতাবাসের পলিটিক্যাল স্পেশালিস্ট ফিরোজ আহমেদ, চেম্বার পরিচালকবৃন্দ এস.এম. সাইফুল আলম, আবু হায়দার চৌধুরী (আমজাদ), আমান উল্লা আল ছগির (ছুট্টু), মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, মো. আফসার হাসান চৌধুরী (জসিম), মো. গোলাম সরওয়ার, মো. জাহিদুল হাসান, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, এ.এস.এম. ইসমাইল খান, ক্যাপ্টেন মো, আলাউদ্দিন আল আজাদ, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, সরোয়ার আলম খান, শহীদুল আলম, মোহাম্মদ শফিউল আলম ও মো. সেলিম নুর, সাবেক পরিচালক ডা. মঈনুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী, ওয়াসিউর রহমান চৌধুরী, জহুরুল হক সেলিম, মো. রকিবুর রহমান (টুটুল), এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, উইম্যান চেম্বারের সভাপতি আবিদা মোস্তফা, চট্টগ্রাম স্টক এঙচেঞ্জ লিমিটেডের মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম ও রিটজি গ্রুপের ব্যবস্থানা পরিচালক মির্জা মোঃ জামশেদ আলী উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্য বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদনশীল খাতের প্রযুক্তি এবং মেশিনারীজ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের সুনাম রয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সামিটে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা যদি অংশগ্রহণ করে সেক্ষেত্রে উভয় দেশ নিজেদের মধ্যে ব্যবসা বাড়াতে পারবে। এছাড়া বাংলাদেশের এগ্রো সেক্টর এবং সরকার ঘোষিত বন্ডেড ওয়্যারহাউসে কটন ও ম্যানমেইড ফাইবার খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের আহবান জানান। একই সাথে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ভিসা ও পাসপোর্ট প্রক্রিয়া সহজ করা এবং চট্টগ্রামে বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাউন্সিল অফিস স্থাপন, ঢাকা–নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালু ও ঢাকা–চট্টগ্রাম এঙপ্রেসওয়ে বিনিয়োগ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।












