সরকারের কাছ থেকে বকেয়া পাওনার একটি অংশ বুঝে পেয়েছে ডায়ালাইসিস সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্যান্ডর মেডিকেইডস (প্রা.) লিমিটেড। গতকাল প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা এ বিল বুঝে পান। প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা প্রদানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে চুক্তিবদ্ধ।
বকেয়া বিলের একটি অংশ বুঝে পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্যান্ডর মেডিকেইডস (প্রা.) লিমিটেডের ম্যানেজার (হিসাব) নাজমুল হাসান। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি আজাদীকে বলেন, আমরা সরকারের কাছে ২৩ কোটি টাকার মতো পাওনা রয়েছি। এর মাঝে রোববার ৫ কোটি টাকার বিল বুঝে পেয়েছি। বিল আটকে থাকায় যে সংকট তৈরি হয়েছিল এখন সে সংকট কেটে যাবে বলে আশা করছি। এর মাধ্যমে ডায়ালাইসিস সেবা অব্যাহত রাখা নিয়ে আর কোনো অনিশ্চয়তা থাকবে না। অর্থাৎ ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ হবে না, চলমান থাকবে। বকেয়া বিলের একটি অংশ স্যান্ডর বুঝে পেয়েছে। এমনটি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান। প্রসঙ্গত, সরকারের কাছ থেকে বকেয়া পাওনা না পাওয়ায় গত ২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চমেক হাসপাতালের নিচ তলায় কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ রাখে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্যান্ডর। একই সাথে ঢাকার জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউটেও এ সেবা বন্ধ রাখা হয়। হঠাৎ ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ করায় দূর-দূরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কিডনি রোগী ও তাদের
স্বজনরা দুর্ভোগে পড়েন। আগাম ঘোষণা ছাড়া সেবা বন্ধ রাখায় সেন্টারের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন তারা। যদিও বিকেল ৪টার দিকে পুনরায় সীমিত আকারে এ সেবা চালু করা হয়। সীমিত আকারে চালু করা হলেও সাপ্লাইয়াররা কাঁচামাল ও ওষুধ সরবরাহ না দেওয়ায় ডায়ালাইসিস সেবা চালু রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা।
ওই সময় স্যান্ডরের ম্যানেজার (হিসাব) নাজমুল হাসান আজাদীকে বলেন, আমরা সেবা বন্ধ রাখতে চাই না। কিন্তু বেশি টাকা বকেয়া থাকায় সাপ্লাইয়াররা আমাদের আর প্রয়োজনীয় ওষুধ ও কাঁচামাল সরবরাহ করছে না। ওষুধ ও কাঁচামাল না পেলে ডায়ালাইসিস সেবা অব্যাহত রাখা সম্ভব না। কয়েকদিনের মাঝে বিল পরিশোধ করা হবে মর্মে সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে কোনোভাবে আপাতত সেবা চালু রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু কাঁচামাল না পেলে তাও সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। অর্থাৎ সেবা চালু রাখা সম্ভব হবে, এমন নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারছি না।
তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাস অনুযায়ী কয়েকদিনের মধ্যেই বকেয়া পাওনার একটি অংশ (৫ কোটি টাকা) হাতে পেয়েছে স্যান্ডর। এতে করে চলমান সংকট কেটে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে ডায়ালাইসিস সেবায় আর অনিশ্চয়তা থাকছে না বলে নিশ্চিত করেছেন স্যান্ডরের ম্যানেজার।
উল্লেখ্য, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় ঢাকার জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও চমেক হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিসে দুটি সেন্টার স্থাপন করে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্যান্ডর মেডিকেইডস (প্রা.) লিমিটেড। সেবাদান বাবদ সরকারের কাছ ২৩ কোটি টাকা পাওনা বকেয়া রয়েছে দাবি করে ৫ জানুয়ারি থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে একযোগে ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার পর আগের দিন রাতে ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে প্রতিষ্ঠানটি।













