নিখোঁজের তিন দিন পর রাজধানীর লালবাগের এক ব্যবসায়ীর মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে গতকাল শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত লালবাগের বিসি দাস স্ট্রিটের ২৬ নম্বর রোডের পাঁচতলা ভবনের পাশের একটি স্থানের মাটি খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩) নামে নিহত ব্যবসায়ীর বন্ধু মো. মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে রনিকে খুন করে লাশ নিজের বাসার নিচে থাকা কারখানার পাশে একটি জায়গায় পুঁতে ওপরে সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে রেখেছিল মাসুম। তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। খবর বিডিনিউজের।
স্বজনরা বলেন, আবাসন ব্যবসায়ী ওয়াসিম রনি গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এর প্রেক্ষিতে লালবাগ থানায় পরিবার জিডি করলে, তদন্তে নেমে পুলিশ মাসুমকে আটক করে। মাসুমকে নিয়েই বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হওয়া লাশ উদ্ধার অভিযান চলে গতকাল শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। এক পর্যায়ে লালবাগের বিসি দাস স্ট্রিটের ২৬ নম্বর রোডের পাঁচতলা ভবনের নিচে একটি জায়গায় পুঁতে রাখা অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। সেখানেই গ্রেপ্তার হওয়া মাসুমের ইমিটেশন গহনার কারখানা রয়েছে।
নিহতের দুলাভাই নাসির উদ্দিন বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই ওয়াসিম রনিকে খোঁজার চেষ্টা চলছিল। বিসি দাস স্ট্রিটের যে পাঁচতলা ভবনের নিচে তাকে মারা হয়, সেখানে মাসুমের ছেলে থাকত। ওই ভবনের নিচেই ছিল মাসুমের ইমিটেশন জুয়েলারির কারখানা। রনিকে মেরে মাসুম লাশ গুমের জন্য কারখানার মাটিতে পুঁতে উপর দিয়ে সিমেন্ট ঢালাই করে দিয়েছিল।
নিহতের স্ত্রীর ভাই মুরাদ হোসেন বলছেন, ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর থেকেই ওয়াসিম রনির ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। তাকে খুঁজতে আমরা মাসুমের বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী বলেছে, ওয়াসিম বাসায় এসেছিল, পরে চলে গেছে। রনি এবং মাসুম দুজন বন্ধু। ইমিটেশন জুয়েলারি ব্যবসায়ী মাসুম প্রায় আট মাস আগে রনির কাছ থেকে তিন লাখ টাকা সুদে ধার নেন। কিন্তু টাকা পরিশোধ না করায় তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
গ্রেপ্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৮ সেপ্টেম্বর পাওনা টাকার চেক আনতে মাসুমের কারখানায় যান ওয়াসিম রনি। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে মাসুম ওয়াসিমের মাথায় ঘুষি মারলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর ভয়ে মাসুম বন্ধুকে হত্যা করে লাশ পুঁতে তার ওপর সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই দেন।
লালবাগ থানার ওসি জামিল হোসেন বলেন, নিহতের স্ত্রী নুসরাত জাহান সীমা গতকাল শুক্রবার মামলা করেছেন। মামলায় একজনকেই আসামি করা হয়েছে, সে গ্রেপ্তার আছে। আসামি স্বীকারোক্তি দিয়েছে। হত্যায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ–কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ী নিখোঁজ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশের মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ থানার এসআই বেলায়েত হোসাইন আসামি মাসুমকে দুপুরে আদালতে হাজির করেন। এ সময় মাসুম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর তথ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আশরাফুল ইসলাম।











