আনোয়ারায় খাল খনন যন্ত্রের থাবায় নির্বিচারে শত শত গাছ নিধন করার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) বিরুদ্ধে। উপজেলার বটতলী ইউনিয়নে বরৈয়া খাল খনন কাজে নানান প্রজাতির কয়েক হাজার গাছ কাটা হচ্ছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি–গাছ না কেটে বিকল্প পদ্ধতিতে খাল খনন করার পরিকল্পনা না করে আবারোও নির্বিচারে গাছ নিধন করার ফলে এলাকার পরিবেশ হুমকিতে রয়েছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম ও কঙবাজারের ভূ–উপরিস্থ পানির মাধ্যমে কৃষি কাজে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে অন্যান্য উপজেলার ন্যায় আনোয়ারায়ও খাল পুনর্খনন করছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। গত বছর মোহছেন আউলিয়া খাল খননে নির্বিচারে অর্ধশত বছরের পুরনো ১০ হাজারের বেশি গাছ নিধন করা হয়েছিল। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করে আবারো বটতলী ইউনিয়নের বরৈয়া খাল খননে নির্বিচারে গাছ কাটার ঘটনায় প্রশাসনের নীরবতা এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়সহ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ইতিমধ্যে নানা প্রজাতির এক হাজারের বেশি গাছ কাটা হয়েছে বলে জানা গেছে। দুই কিলোমিটার খাল খননে আরো কয়েক হাজার গাছ নিধন করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল জানান, বরৈয়া খাল খননে বিএডিসির নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এঙকেভেটর মেশিন দিয়ে খালের দুই পাড়ের গাছগুলো কেটে খাল খনন করছে। অথচ মেশিন দিয়ে এ গাছগুলো না কেটে ২০ বছর আগে গাছ রক্ষা করে স্থানীয় লোক দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ তৈরি করা হত এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা হত। কিন্তু এখন সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন আর বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। এটি সত্যি আমাদের জন্য দুঃখজনক। আধুনিক যন্ত্রের থাবায় এভাবে গাজ নিধন আমাদের পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটাবে–কোনো সন্দেহ নেই।
বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারায় চারটি খালের নাব্যতা ফেরাতে খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নিয়েছে বিএডিসি। ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলার শাহ মোহছেন আউলিয়া খালের ৬ কিলোমিটার, বরৈয়া খালের ৫ কিলোমিটার, কুদালা খালের ৪ কিলোমিটার ও গোবাদিয়া খালের ৩ কিলোমিটারে খননকাজ চলমান। এসব খাল ৩০ ফুট চওড়া ও পৌনে ৫ ফুট গভীর করে খনন করার কথা থাকলেও সিডিউল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। বিএডিসি–আনোয়ারা উপজেলার উপ–সহকারী প্রকৌশলী আজমানুর রহমান আজাদীকে জানান, সিডিউল অনুযায়ী খাল খনন করার জন্য এঙকেভেটর মেশিন দিয়ে গাছগুলো কাটতে হচ্ছে। ১৫–২০ বছর আগে গাছ না কেটে ম্যানুয়ালি খাল খনন করা হত। কিন্তু এখন সেই সুযোগ নেই। এঙকেভেটর দিয়ে গাছ কাটতে হয়। আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, খাল খনন কাজে যে সমস্ত গাছ কাটা হচ্ছে। সে বিষয়ে আমরা বিএডিসি ও অন্যান্য দপ্তরের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিব।














