এখানে কোরবানির ঈদ উদযাপন করলাম। দেখলাম বাঙালি এলাকায় গ্রোসারির দোকানে খুদে সাইনবোর্ড দেওয়া হয়েছে ‘কোরবানির টাকা নেওয়া হয়’। প্রতিঅংশ ৭০০ ডলার। বাংলাদেশী টাকায় ৬৩ হাজার। এক মণের মত মাংস থাকবে। অধিকাংশ মানুষ দেশে টাকা পাঠিয়ে দে। এখানে যত্রতত্র পশু জবেহ করা যায় না। সরকারি কসাইখানা আছে সেখানে দিতে হবে। জবেহ করার আগে পশু ডাক্তার আসবে। পরীক্ষা করবে। জবে করার পর আবার কলিজা পরীক্ষা করবে। তারা অনুমতি দিলে মাংস দিতে পারবেন। আর এই কসাইখানা শহর থেকে অনেক দূরে।
কল্পনা করতে পারবেন না এদের আধুনিক জীবনযাত্রা। পৃথিবী কত ছোট হয়ে আসছে। এবার আমার মেয়ে এবং জামাই হজে গিয়েছে। ওখান থেকে ওরা তাদের ছেলে মেয়ে এবং এ্যাপার্টমেন্ট নিয়ন্ত্রণ করছে। গড়ে দুটি ছোট ক্যামেরা আছে। আমার মেয়ে মিনা থেকে ছেলেদের স্কুলে, সোফা সেট পরিষ্কার, রান্নাঘর সবকিছু দিক নির্দেশনা দিচ্ছে। একটু ব্যতিক্রম হলে ছোট্ট ক্যামেরা কথা বলছে, আব্বু আম্মুকে বল সোফা সেটের কভার ঠিক করে দেওয়ার জন্য। গড়ে দুইটি ছোট্ট রোবট আছে। একটি ঘরের ময়লা পরিষ্কার করে অন্যটি পানি দিয়ে ঘর মুছে দে। এদের নিয়ন্ত্রণ সৌদি আরবে অবস্থানরত আমার মেয়ের হাতে। এখানে কোন শব্দ দূষণ নাই বললেই চলে। ৫ বছরে গাড়ির হর্ন শুনেছি মাত্র দুইবার। তবুও নির্দিষ্ট সময়ে মানুষ নামাজে হাজির হয়। ইদানীং অনেক মসজিদ তৈরি হয়েছে। জামাত হয় সব নীরবে।
এখানে রাস্তাঘাটে আমি কোনো কিশোর গ্যাং দেখিনি, দোকানের সামনে কোন জটলা নেই। শত শত বাড়ি ঘর দাঁড়িয়ে আছে, কোন বাড়িতে মনে হয় না মানুষ আছে। প্রকৃতি এখানে বিরূপ। এবার অনেকদিন শীতকাল চলছে। তারপরও মানুষ কাজ করছে। মানুষ ছুটির দিনে বেরিয়ে পড়ে বিভিন্ন পার্কে।












