বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে জাতীয় গুণী শিক্ষক সম্মাননা পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) তিন শিক্ষক। তাঁরা হলেন চবি গণিত বিভাগের প্রয়াত প্রফেসর ড. জামাল নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. আ ন ম মুনির আহমেদ চৌধুরী এবং সমাজ বিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও লোকপ্রশাসন বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. আমির মুহাম্মদ নসরুল্লাহ। নিজ নিজ ক্ষেত্রে শিক্ষা, গবেষণা, জ্ঞানচর্চা ও সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুণী শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্মাননা হিসেবে প্রতিজনকে দুই লাখ টাকা ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এ তিন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। প্রয়াত প্রফেসর ড. জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গণিতবিদ ও তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী। গণিত ও মহাবিশ্ববিষয়ক গবেষণায় তাঁর অবদান দেশের গণ্ডী পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্বীকৃত। রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. আ ন ম মুনির আহমেদ চৌধুরী শিক্ষকতা ও গবেষণার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে জ্ঞানচর্চায় অবদান রেখেছেন। অন্যদিকে সমাজ বিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও লোকপ্রশাসন বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. আমির মুহাম্মদ নসরুল্লাহ উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁর দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে অবদান রেখে চলেছেন।
এবার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১০১ জন শিক্ষককে রাষ্ট্রীয় এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ জন (সাধারণ শিক্ষায় ৮ ও মাদ্রাসায় ২ জন), মাধ্যমিক পর্যায়ে ২০ জন (সাধারণ মাধ্যমিকে ১০, কারিগরিতে ৫ ও মাদ্রাসায় ৫ জন), কলেজ পর্যায়ে ২৫ জন (সাধারণ শিক্ষায় ১৫, কারিগরিতে ৫ ও মাদ্রাসায় ৫ জন) এবং সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ২০ জন (সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮ ও বেসরকারিতে ২ জন) শিক্ষক রয়েছেন।
এ ছাড়া চিকিৎসা শিক্ষায় ১০ জন (মেডিকেল কলেজে ৫ ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ জন), কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ জন এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় নির্বাচিত আরও ৬ জন শিক্ষক এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ইউনেস্কো ঘোষিত এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘শিক্ষকদের পাশে: পেশার সুরক্ষায় ৬০ বছর, মর্যাদা এগিয়ে নেওয়া এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়া’। দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষা ও সমাজ বিনির্মাণে শিক্ষকদের অবদানকে স্মরণ করা এবং যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা সুদৃঢ় করা।
গুণী শিক্ষক নির্বাচনের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) পৃথক সার্চ কমিটি গঠন করেছিল। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে সুপারিশকৃত প্যানেল থেকে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি যাচাই–বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন করে।
প্যারিসে ১৯৯৩ সালে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ সভায় ৫ অক্টোবর দিনটিকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ পালন শুরু হয়। ইউনেস্কোর অনুমোদনক্রমে প্রতিবছর পৃথক প্রতিপাদ্যে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও গতকাল সোমবার যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়েছে।











