নবসৃষ্ট ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এক কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় প্রথম কিস্তিতে আরও ২৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই প্রকল্পে ফটিকছড়ি উপজেলার জন্য বরাদ্দ এসেছে ২২ লাখ ৫ হাজার টাকা। ফলে উপজেলা বিভক্তির পর দুই উপজেলায় পৃথকভাবে উন্নয়ন বরাদ্দ পাওয়ায় আগের তুলনায় উন্নয়ন খাতে অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফটিকছড়ি উপজেলা ও ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মো. ইব্রাহিম বলেন, নতুন যেসব উপজেলা সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলোর প্রত্যেকটির জন্য সরকার এক কোটি টাকা করে বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার জন্যও এক কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তিনি বলেন, এর বাইরে এডিপি থেকে ফটিকছড়ি উপজেলার জন্য ২২ লাখ টাকা এবং ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার জন্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব বরাদ্দ আগের সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
ইউএনও সাঈদ মো. ইব্রাহিম বলেন, আগে পুরো ফটিকছড়ির ১৮ ইউনিয়ন দুই পৌরসভার উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থার সংস্কারের জন্য যে পরিমাণ বরাদ্দ পাওয়া যেত, তা দিয়ে এত বড় উপজেলার প্রয়োজন মেটানো বেশ জটিল হয়ে পড়ত। এখন উপজেলা বিভক্ত হওয়ার পর দুই উপজেলায় আলাদাভাবে বরাদ্দ আসায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
সরকারি বরাদ্দপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা খাতে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার প্রথম কিস্তিতে ২৩.৭৪ লাখ টাকা এবং ফটিকছড়ি উপজেলার জন্য ২২.০৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ অর্থ চার ধাপে পর্যায়ক্রমে ছাড় করা হবে। সে হিসাবে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার এডিপি খাতের বার্ষিক বরাদ্দ প্রায় ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা হতে পারে।
ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী বলেন, আগে পুরো ফটিকছড়ির জন্য এ প্রকল্প থেকে প্রায় ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ আসত। উপজেলা বিভক্ত হওয়ার পর দুই উপজেলায় আলাদাভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে উন্নয়নে দ্বিগুণের বেশি অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার জন্য এটি প্রথম এডিপি বরাদ্দ। চার ধাপে বছরে প্রায় ৯৫ লাখ টাকা পাওয়া গেলে গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ, কৃষি, শিক্ষা এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ ব্যাপারে ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান চৌধুরী শিপন বলেন, উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, সকল বিভেদ ভুলে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাব।










