বান্দরবানের রুমায় হঠাৎ করে হামের প্রকোপ বেড়েছে। এ রোগের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ার মধ্যে গত ১৫ দিনে সাত খুমি শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছেন স্থানীয়রা। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এসব শিশু রুমা সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লেতং পাড়ার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে ছয় শিশুই একে অপরের আত্মীয়। খবর বিডিনিউজের।
লেতং পাড়ার বাসিন্দা অংসাই খুমি বলেন, ‘পাড়ার শৈলুং খুমির পরিবারেরই ছয়জন মারা গেছে। আরেকজন অন্য পরিবারের। এদের মধ্যে দুই শিশু হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে মারা যায়। একজন হাসপাতালে আসার পর মারা যায়। আর বাকিরা হামের লক্ষণ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পাড়াতেই মারা যায়। এখন হামের লক্ষণ দেখা দিলে কষ্ট করে হলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে লোকেরা।’ অংসাই খুমির দেওয়া তথ্য মতে, লেতং পাড়া সদর ইউনিয়নে হলেও দুর্গম। সেখানে ২৮টির মত খুমি পরিবার রয়েছে। বগালেকের সাত কিলোমিটার এলাকা থেকে দুই ঘণ্টা পায়ে হেঁটে যেতে হয় সেখানে।
গতকাল সোমবার রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীদের আলাদা ওয়ার্ডের আইসোলেশন কক্ষে রাখা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের কারও স্যালাইন চলছে, কারও অভিভাবকরা সেবা করছেন। এর মধ্যে কেউ কেউ হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে নতুন ভর্তি হতে আসছে। বগালেকের নিচে ফাইনন পাড়া থেকে আসা পারিং ম্রো নামে একজন অভিভাবক বলেন, তার সাত বছর বয়সি মেয়ের কয়েক দিন ধরে গলা, পেটে ও মুখে ব্যথা শুরু হয়। এমনকি জিহ্বাতেও ব্যথা করে। রোববার সকালে হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করা হয়। এখন আগের চাইতে ভালো হচ্ছে। হামের উপসর্গ নিয়ে আগে থেকে ভর্তি হওয়া কিছু রোগী সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরছে। অনেককে ভালো হয়ে ঘরে যাওয়ার জন্য বিছানা গুছিয়ে প্রস্তুতি নিতে গেছে দেখা গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ভ্যাকসিনেটর উথোয়াই সিং মারমা বলেন, ‘স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশে কয়েক দিন আগে লেতং খুমি পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি ঘরেই শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ রয়েছে। অনেক পরিবার আধুনিক চিকিৎসার পরিবর্তে গাছ–গাছালি ও ভেষজ উপায়ে চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করছে। আমরা ৩০ থেকে ৩৫ জন এক থেকে ছয় বছর বয়সি শিশুকে হামের টিকা দিয়েছি। টিকাদানের সময় তিনজন শিশুকে সংকটাপন্ন অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিই। পরে হাসপাতালে আনার পথে একজন শিশুর মৃত্যু হয়।’
রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি বছরের ৬ জুন থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে প্রায় ১০০ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ২২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়েছে ৬৫ জন। বর্তমানে ১৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি আছে।
রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) আব্দুল্লাহ আল হাসান বলেন, শনিবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে দুর্গম লেতং খুমি পাড়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই দুজন স্বাস্থ্যকর্মী ও একজন ভ্যাকসিনেটরকে সেখানে পাঠানো হয়। তারা পাড়ায় গিয়ে অসুস্থ শিশুদের খোঁজ নেন এবং এক থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের হামের টিকা দেন।
হামের মোকাবিলায় এক সপ্তাহের টিকাদানের কর্মসূচি হাতে নেওয়ার তথ্য দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, উপজেলা প্রশাসন, সেনা ও বিজিবি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরে সঙ্গে সমন্বয় করে এটা পরিচালনা করা হবে। কোন কোন এলাকায় টিকা নেয়নি বা বাদ পড়ে থাকতে পারে সেই এলাকা চিহ্নিত করে টিকাদান কর্মসূচি চলবে। যাতে কোনো শিশু বাদ না পড়ে।










