হাসিনা, বদিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

কাউন্সিলর একরাম হত্যা পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, গ্রেপ্তার তিনজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ

| সোমবার , ২৭ জুলাই, ২০২৬ at ৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ

মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলামের তরফে গতকাল রোববার সকালে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালএ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। এদিন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং গ্রেপ্তার থাকা তিনজনকে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন কৌঁসুলি মোহাম্মদ জহিরুল আমিন। তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরার পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার আর্জি জানান। ট্রাইব্যুনাল শুনানি নিয়ে অভিযোগ আমলে নেওয়ার পাশাপাশি আসামিদের হাজির ও গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৫ আগস্ট দিন ঠিক করে দেয়। খবর বিডিনিউজের।

শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি, সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রুহুল আমিন, সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান। তাদের মধ্যে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকা আবদুর রহমান বদি, মাহবুব আলম ও আনোয়ার লতিফ খানকে এ মামলায় হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই ১১ জন ছাড়াও র‌্যাব৭ এর কর্মকর্তা, সদস্য, র‌্যাবের সিভিল টিম ও ডিজিএফআই সদস্যদের বিরুদ্ধেও এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনা তার ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার উদ্দেশ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দল, ভিন্ন মতাবলম্বী ও সমালোচকদের নিশ্চিহ্ন করার নীল নকশা করেন। এর অংশ হিসেবে আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে সারা দেশে গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, জোরপূর্বক অপহরণ, কথিত ক্রসফায়ারের নামে গুলি করে হত্যা, অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা, সুযোগ তৈরি, সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ প্রদানের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটং’র সামনের রাস্তা থেকে একরামুল হককে অপহরণ করা হয়। রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র‌্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ৪৬ বছর বয়সি একরামুল হক। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। তার বাবার নাম আব্দুস ছাত্তার, মায়ের নাম হাফেজা বেগম।

একরামুল নিহত হওয়ার পর র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার বাবার নাম লেখা হয় মোজাহার মিয়া ওরফে আবদুস সাত্তার। আর ঠিকানার জায়গায় টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী পাড়ার বদলে লেখা হয় নাজিরপাড়ায়। ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং ইয়াবার শীর্ষ গডফাদার আখ্যায়িত করে বলা হয়, একরামের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

একরামকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লক্সঘনের অভিযোগে র‌্যাবের সাত কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একরাম হত্যার সময় র‌্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন বেনজীর আহমেদ। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় বেনজীরের পাশাপাশি কক্সবাজারে র‌্যাব৭ এর সাবেক অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দিন আহমেদের নামও আসে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই কাউন্সিলর একরাম হত্যা : প্রধান কৌঁসুলি
পরবর্তী নিবন্ধপটিয়ায় বসতঘরে মিলল কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ