চন্দনাইশে কৃষি, মৎস্য ও যোগাযোগ খাতে ১২৮ কোটি টাকার ক্ষতি

বন্যা পরবর্তী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য

মুহাম্মদ এরশাদ, চন্দনাইশ | শনিবার , ২৫ জুলাই, ২০২৬ at ৯:০১ পূর্বাহ্ণ

সাম্প্রতিক সময়ে টানা বর্ষণে চন্দনাইশ উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ডুবে ভয়াবহ বন্যায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বর্তমানে বন্যার পানি নেমে গেছে। কিন্তু ক্ষতচিহ্ন রেখে গেছে উপজেলার কৃষিক্ষেত, মৎস্যখাত ও যোগাযোগ খাতে। বন্যায় পানির নিচে নিমজ্জিত হয় হাজার হাজার হেক্টর আউশ ধান, আউশআমনের বীজতলা, সবজি ক্ষেত, প্রায় ১৬৩০টি পুকুর এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩২টি সড়কের ৪.৩ কিলোমিটার অংশ এবং ৮টি ব্রিজ/কালভার্টের এপ্রোজ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভয়াবহ বন্যায় চন্দনাইশে কৃষিখাতে প্রায় ৭০ কোটি, মৎস্য খাতে ২৩ কোটি এবং যোগাযোগখাতে ৩৫ কোটিসহ প্রায় ১২৮ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আজাদ হোসেন জানান, চলমান বন্যায় চন্দনাইশে বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২২০০ হেক্টর আউশ ধান, ৯০০ হেক্টর বিভিন্ন ধরনের সবজি, ২০০ হেক্টর পেপে, পান ও আঁখ ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়। এতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারিভাবে প্রণোদনা পেলে তালিকা অনুসারে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহসান জানান, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। কারো পুকুর ডুবে মাছ ভেসে গেছে, কারো পুকুরের পাড় ভেঙে অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমনকি দূষিত পানি প্রবেশ করে বিভিন্ন রোগের প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী চন্দনাইশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৬৩০ মাছ চাষের পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার আয়তন ৩২৪ হেক্টর। এতে আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৩ কোটি টাকা। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষিদের সহায়তার জন্য ইতিমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহযোগিতা পাবো। তবে তিনি আহ্বান জানান, সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা কিংবা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যারা বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনে কাজ করে থাকেন তারাও যেন আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিদের পাশে দাঁড়ান।

উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে ৪.৩ কিলোমিটার পরিমাণ সড়ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া বন্যার পানির স্রোতে ৮টি ব্রিজকালভার্টের এপ্রোচ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে যোগাযোগ খাতে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম শাওন জানান, বন্যায় চন্দনাইশে ১১০টি মাটি ও কাঁচা ঘর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন, এ পর্যন্ত ১৫০ টন চাল বন্যা কবলিতদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের বন্যায় মানুষের স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলেও দুর্দশা কমেনি। এখন চন্দনাইশসাতকানিয়াকে পুনর্গঠনই হবে আমার চ্যালেঞ্জ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাবাকে হারিয়ে ফেলা ফাতেমা যেভাবে ফিরল বাবার কোলে
পরবর্তী নিবন্ধটাইগার পার্স নিয়ে গবেষণা করবেন বিএফআরআইয়ের বিজ্ঞানীরা