জাবেদের গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে কী কী পেল দুদক?

| মঙ্গলবার , ২১ জুলাই, ২০২৬ at ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ

আদালতের আদেশে ক্রোক করা সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে দুই দিন কাজ করে পোশাক, দামি ঘড়ির বাঙ, গাড়ির চাবি, গয়না, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও আসবাবসহ ২৬০ ধরনের আলামত তালিকাভুক্ত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, দুই দিনের কার্যক্রম শেষে প্রায় ১৮ কোটি টাকার ফ্ল্যাট দুটি দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ২৬০ ধরনের আলামত পাওয়া গেছে। তালিকার ২৬০টি এন্ট্রিতে উল্লেখ করা আলামতের পরিমাণ যোগ করলে দেড় হাজারের বেশি ইউনিট মালামাল পাওয়া যায়। খবর বিডিনিউজের।

ফ্ল্যাট দুটিতে রবি ও সোমবার জিনিসপত্রের তালিকা তৈরি (ইনভেন্টরি) করা হয়। দুই দিনের কার্যক্রম শেষে সেগুলো দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের রিসিভারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। আদালতের অনুমতি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দুদকের অনুসন্ধান দল ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের প্রতিনিধিরা মালামালের তালিকা করেন। এ সময় পুলিশ সদস্য, ভবনের ব্যবস্থাপক ও নিরাপত্তাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

ফ্ল্যাট দুটিতে ৪৩০টি টাই, ১৯০টি স্যুট, ৫০টি প্যান্ট ও ৯১টি শার্ট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এ৭ নম্বর ফ্ল্যাটে পাওয়া গেছে ২৭৬টি টাই, ৫০টি স্যুট, ৫০টি প্যান্ট ও ৯১টি শার্ট। বি৭ নম্বর ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে আরও ১৫৪টি টাই পাওয়া গেছে। ওই ফ্ল্যাটের দেয়ালের তিনটি কেবিনেটে রাখা ছিল ১৪০টি স্যুট।

তালিকায় রোলেঙ ব্র্যান্ডের চারটি খালি ঘড়ির বাঙের কথা রয়েছে। এ ছাড়া অডেমার পিগে, ভাশেরন কনস্টানটিন, এলইউসি, পারমিজিয়ানি ফ্লুরিয়ে, জেগারলেকুলত্র ও ব্রেগে ব্র্যান্ডের ঘড়ির বাঙও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। জেগারলেকুলত্রের দুটি এবং অন্য ব্র্যান্ডগুলোর একটি করে বাঙ পাওয়া গেছে। রোলেঙের একটি বাঙে ব্যবহৃত ও নষ্ট একটি ঘড়িও পাওয়া গেছে।

অডেমার পিগের একটি ওয়ারেন্টি কার্ড ও ম্যানুয়ালও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মার্সিডিজবেঞ্জের ম্যানুয়াল ও সিডি ড্রাইভ এবং কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ির ছবি পাওয়া গেছে। ফ্ল্যাট দুটি থেকে পাঁচটি গাড়ির চাবি তালিকাভুক্ত করেছে দুদক। এর মধ্যে মার্সিডিজবেঞ্জের দুটি এবং ল্যান্ড রোভার, টয়োটা ও ডিফেন্ডারের একটি করে চাবি রয়েছে। তালিকায় তিনটি মুক্তার মালা, ‘বোর্নিও পার্লস’ লেখা একটি সামগ্রী এবং ভারসাচির দুটি শোপিসও রয়েছে।

এ ছাড়া ল্যাপটপ, প্রিন্টার, টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, সোফা, খাট, আলমারি, ঝাড়বাতি, কার্পেট, স্যুটকেস, রান্নাঘরের সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন ধরনের আসবাব তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ফ্ল্যাট দুটি গুলশানের ৬৬ নম্বর সড়কের নর্থওয়েস্ট (বি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটে। এ৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুট এবং বি৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুট। দুটি ফ্ল্যাটের মোট আয়তন ৭ হাজার ৫৭৯ বর্গফুট।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবন্যা ও পাহাড় ধসে সড়কে মৃত্যুফাঁদ
পরবর্তী নিবন্ধমাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর