এই ফ্রান্সকে থামাবে কে?

ভয়ঙ্কর সুন্দর!

স্পোর্টস ডেস্ক | বৃহস্পতিবার , ২ জুলাই, ২০২৬ at ৪:৩৯ পূর্বাহ্ণ

ফ্রান্সের খেলা দেখে প্রতিপক্ষ সুইডেনই তো লাজওয়াব হয়ে গেল। তারা শুরুতে একটি সুযোগ পেয়েছিল বটে। তবে এরপর যা হলো, তার কোনো জবাব খুঁজে পেল না দলটি। আক্রমণের তোড়ে তাদের ভাসিয়ে দিল ফ্রান্স। খেলা শেষে খোদ সুইডিশ কোচ গ্রাহাম পটার দুই দলের পার্থক্যের বিষয়টি তুলে ধরে বললেন, আমাদের নিখুঁত খেলতে হতো। কিন্তু আমি যদি সৎভাবে বলি, আমরা নিখুঁত খেললেও তা যথেষ্ট হতো কিনা তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। কারণ প্রতিপক্ষ অত্যন্ত উচ্চমানের ফুটবল খেলেছে। ম্যাচে ফ্রান্স জিতলো ৩০ গোলে। জোড়া গোল এমবাপ্পের। তাদের অন্য গোলদাতা ব্রাডলে বার্কোলা। নকআউটের ম্যাচে তিন গোলের ব্যবধান মানে বিশাল জয়। তবে ম্যাচটি যারা দেখেছেন, তারা জানেন, বড় বাঁচা বেঁচে গেছে সুইডেন। আরও গোটা পাঁচেক গোল তো অনায়াসেই ঢুকতে পারত তাদের জালে! তাদেরকে স্রেফ যেন ছিঁড়েখুঁড়ে খেতে চেয়েছে ফ্রান্স। দুটি শট লেগেছে পোস্টে, একটি গোল হয়নি অফসাইডের কারণে। সুইডিশ গোলকিপার ঠেকিয়েছেন ৯টি শট।

ম্যাচজুড়ে ফ্রান্সের একচেটিয়া দাপটের প্রমাণ মেলে অন্যান্য পরিসংখ্যানেও। ৬১ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য মোট ২৫টি শট নেয় তারা, যার ১২টি ছিল লক্ষ্যে। সুইডেনের আট শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল। এটিই যেন এখন ফ্রান্স দলের নিয়মিত চিত্র। প্রতি ম্যাচে হয়তো আক্রমণের জোয়ার এত তীব্র থাকে না বা গোলকিপারকে এত সেভ করতে হয় না। তবে প্রতি ম্যাচেই তাদের দাপট সুস্পষ্ট। প্রতিদ্বন্দ্বিদের সঙ্গে ব্যবধানও পরিষ্কার। ফ্রান্স ছুটছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। সেই পথচলার অগ্রভাগে আছেন চেনা সেনাপতি, কিলিয়ান এমবাপ্পে।

সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচটি দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচে তিন বা এর বেশি গোল করেছে ফ্রান্স। এই ম্যাচে জোড়া গোলের পর এমবাপ্পের গোল এবারের বিশ্বকাপে ছয়টি। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে যৌথভাবে শীর্ষে তিনি লিওনেল মেসির সঙ্গে। তবে আর্জেন্টাইন জাদুকরের চেয়ে একটি জায়গায় এগিয়ে ফরাসি রাজপুত্র। দুটি গোলে সহায়তাও করেছেন তিনি। তবে তিনি একাই নন। উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, দেজিয়ে দুয়ে, বাহডলে বার্কোলাদের সমন্বয়ে আক্রমণভাগ যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই বিভীষিকা। রক্ষণ ও মাঝমাঠেও তাদের শক্তির গভীরতার তল পাওয়া কঠিন।

সব মিলিয়ে গত বিশ্বকাপেরর রানার্সআপ ও এর আগেরবারের চ্যাম্পিয়নদের মনে হচ্ছে অন্য সব দলের চেয়ে ভিন্ন উচ্চতার দল এই ফ্রান্স। তবে এমন জমাট পারফরম্যান্স, গোছানো ও গতিময় ফুটল এবং বিধ্বংসী ফিনিশিং ছাড়াও এই ফ্রান্স দলে চোখে পড়ার মতো আরও অনেক কিছু আছে। তাদের একতা, দল হিসেবে খেলা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং তাদের স্পিরিট, সবকিছুই নজর কাড়ার মতো। সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচেই সেটি দৃশ্যমান হয়েছে দারুণভাবে।

ফ্রান্স দলটা এখন একপ্রাণ। ম্যাচের পর কোচ দেশোঁমের কণ্ঠে সেই তৃপ্তি। এই দলটা ঐক্যবদ্ধ এবং আমি যখন এখানে ছিলাম না (আগের ম্যাচে), তখনও তারা ভালো খেলেছে। স্রেফ এই দলীয় চেতনা হয়তো ম্যাচ জেতার নিশ্চয়তা দেয় না। কিন্তু আমি জানি, ব্যাপারটা উল্টো হলে সেই দল ম্যাচ হেরে যেতে পারে। সম্মিলিত শক্তিই সবকিছুর ঊর্ধ্বে, বলেন তিনি। অসাধারণ ফুটবল সামর্থ্যের সঙ্গে এই একতা ও চেতনা যোগ হওয়ায় ফ্রান্স দলটা হয়ে উঠছে আরও অপরাজেয়। এই দলকে কীভাবে থামানো সম্ভব, বুঝে উঠতে পারছেন না ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার ইয়ান রাইট। তিনি বলেন, এই ধরনের দলের সামর্থ্যকে থামাতে পারবেন না। এবারের টুর্নামেন্টে আমি যতগুলো দল দেখেছি, তার মধ্যে ফ্রান্স সুস্পষ্ট ফেভারিট।

রাইটের সাবেক আর্সেনাল সতীর্থ এবং ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী পাত্রিক ভিয়েরা যোগ করেন, তারা সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, এই দলকে হারানো কঠিন। তিনি ভুল বলেননি। যদিও শেষ কথা বলে কিছু নেই। একটি বাজে দিন আসতেই পারে এই দলেরও। তবে আপাতত সেই দিনটিকে মনে হচ্ছে অনেক দূর। গ্রুপ পর্বের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর নকআউটের প্রথম ম্যাচে তাদের ঘোর জাগানো পারফরম্যান্স দেখে প্রশ্নটা উঠেই যাচ্ছে, ফ্রান্সের ‘ক্লাস অফ ২০২৬’কে কি কেউ থামাতে সক্ষম? ধারাভাষ্যের কবি পিটার ড্রুরি তো সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের তৃতীয় গোলটির পর বলেই দিয়েছেন, এটি স্বর্গের ফুটবল, পৃথিবীর কেউ থামাবে কী করে! কোয়ার্টারফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে খেলবে ফ্রান্স।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহ্যারি কেইনের আলোয় শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড
পরবর্তী নিবন্ধলক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রেকর্ড পৌরকর আদায় চসিকের