৪০ বছর পর নকআউটে জয় মেক্সিকোর

স্পোর্টস ডেস্ক | বৃহস্পতিবার , ২ জুলাই, ২০২৬ at ৫:২৩ পূর্বাহ্ণ

স্বাগতিক মেক্সিকোর দর্শক সংখ্যা ৮০ হাজার ৮২৪। গর্জনে প্রকম্পিত চারপাশ। কিন্তু গর্জে উঠল প্রকৃতিও। বজ্রঝড়ে খেলা শুরু হতে দেরি হলো ১ ঘণ্টা। প্রকৃতি শান্ত হওয়ার পর মাঠে ঝড় তুলল মেক্সিকো। গতিময় ফুটবলে প্রথম আধ ঘণ্টাতেই দুর্দান্ত দুটি গোল। এরপর আর গোল হলো না ম্যাচে। প্রয়োজনও পড়ল না। উৎসবের মঞ্চ রাঙিয়ে গোটা দেশকে আনন্দে ভাসিয়ে পৌঁছে গেল তারা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয়। বিশ্বকাপের ম্যাচটিতে ইকুয়েডরকে ২০ গোলে হারিয়ে ৪০ বছরের খরা কাটাল মেক্সিকো। সবশেষ সেই ১৯৮৬ নিজ দেশের আসরে নকআউটের ম্যাচ জিততে পেরেছিল তারা। এখনকার কোচ হাভিয়ের আগিরে ছিলেন সেই দলের ফুটবলার। ১৯৯৪ থেকে টানা সাতটি আসরে গ্রুপ পর্ব উতরে পরের ধাপেই মুখ থুবড়ে পড়েছে তারা। এবার কেটে গেল সেই ধারা। ম্যাচে গোল দুটি করে হুলিয়ান কিনোনেস এবং রাউল হিমেনেস। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম গোলস্কোরার কিনোনেসের গোল এখন তিনটি। অভিজ্ঞ হিসেবে এবারের আগে তিনটি বিশ্বকাপ খেলেও গোলের দেখা পাননি। এবার ৩৫ বছর বয়সে গোল করলেন তিনি দুটি। ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বিশ্বকাপে আসা ইকুয়েডর ছিটকে গেল গ্রুপ পর্ব পেরিয়েই। ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ বোঝাপড়ায় আক্রমণ গড়ে তুলতে থাকে মেক্সিকো। ষষ্ঠ মিনিটে লুইস রোমোর নিচু শট বাইরে দিয়ে চলে যায়। পরের মিনিটে তার নিখুঁত ক্রস থেকেই হিমেনেসের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। মেক্সিকোর গতির সঙ্গে তখন পেরে উঠছিল না ইকুয়েডর। তবে প্রথম ১০ মিনিটে আক্রমণের স্রোত সামলে একটু গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা। প্রথম এগিয়ে যেতে পারত তারাই। অষ্টাদশ মিটে গন্সালো প্লাতা দুর্দান্তভাবে তার প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে ফাঁকা জায়গায় ঢুকে পড়েন। জন ইবোয়া এগিয়ে এসে বক্সে ঢুকে পড়েন এবং তার বাঁ পায়ের জোরাল শটে বল কাছের পোস্টে লেগে বাইরের জালে জড়ায়। তবে এর মধ্যেই মেক্সিকো এগিয়ে যায় ২২তম মিনিটে। ইকুয়েডরের আক্রমণ ঠেকিয়ে দারুণভাবে বল বাড়ান হেসুস গাইয়ার্দো। নিজের অর্ধে থেকেই অফসাইড ফাঁদ এড়িয়ে বাম দিক দিয়ে ছুটতে থাকেন কিনোনেস। এরপরই দেখা যায় বিধ্বংসী একক নৈপুণ্য। সরাসরি গোলের দিকে দৌড়ে গিয়ে বক্সের ঠিক ভেতর থেকে এক অপ্রতিরোধ্য শট নেন। সেই গোলা সামলানোর উপায় ছিল না গোলকিপারের। পরের গোলটি আসে দ্রুতই। সেখানে বড় অবদান ইকুয়েডরের রক্ষণভাগের বড় ভুলের। তকে হিমেনেসের ফিনিশিং ছিল দুর্দান্ত। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে জোয়েল ওর্দানেস সরাসরি দিয়ে বসেন হিমেনেসকে। তিনি কিনোনেসের সঙ্গে বল দেওয়ানেওয়া করে বক্সের একটু ভেতরে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে দারুণ শটে বল জালে জড়ান পোস্ট ঘেঁষে। ইকুয়েডরকে মনে হচ্ছিল তখন ছন্নছাড়া। তবে ৩৫ মিনিটের পর থেকে একটু গুছিয়ে নেয় তারা। ৪০তম মিটে ইবোয়ার জোরাল শট লাফিয়ে ফিরিয়ে দেন রাউল রাহনেল। ৪২তম মিনিটেও কর্নার করে দলকে রক্ষা করেন মেক্সিকোর গোলকিপার। পাল্টা আক্রমণে ৪৫তম মিনিটে হিমেনেসের ভলি চলে যায় ওপর দিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ২০ মিনিটে বল নিয়ন্ত্রণে বেশি রাখে ইকুয়েডর।

তবে তেমন কোনো পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দল। ৬৭ মিনিটে সম্ভাবনা জাগায় মেক্সিকো। সেসার মন্তেসের হেড অসাধারণ রিফ্লেক্সে এক হাতে বাইরে পাঠিয়ে দেন ইকুয়েডরের গোলকিপার এর্নান গালিন্দেজ। সেখান থেকে পাওয়া কর্নারে জোহা ভাস্কেসের হেড চলে যায় একটু বাইরে দিয়ে। ইকুয়েডর চেষ্টা করে গেছে। কিন্তু মেক্সিকোর রক্ষণের দৃঢ়তায় তৈরি করতে পারেনি পরিষ্কার সুযোগ। শেষ বাঁশি বাজার পর গ্যালারির গগণবিদারী চিৎকারের মধ্যে মাঠে বাঁধনহারা উদযাপনে মেতে উঠল গোটা দল। কোয়ার্টারফাইনালে মেক্সিকো সবশেষ খেলেছিল সেই ৪০ বছর আগেই। এবার তাদের সামনে সেই হাতছানি। তবে পরের চ্যালেঞ্জ অনেক কঠিন, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে সেখানে ইংল্যান্ড।

পূর্ববর্তী নিবন্ধটি-টোয়েন্টি দলে মোসাদ্দেক-ইয়াসির
পরবর্তী নিবন্ধআহলে সুন্নাত চন্দনাইশ উপজেলার শাহাদাতে কারবালা মাহফিল