ইমাম হুসাইনের শাহাদাত বাহ্যিক পরাজয় নয়, বরং সত্যের চিরন্তন ও শাশ্বত বিজয়

আনজুমান ট্রাস্টের শোহাদায়ে কারবালা মাহফিলে বক্তারা

| শুক্রবার , ২৬ জুন, ২০২৬ at ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ

সত্যপন্থী আউলিয়ায়ে কেরাম এবং সুফি সাধকগণ তাঁদের বাণী ও রচনাবলির মাধ্যমে কারবালার ঘটনার মূল চেতনা ও আত্মাকে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁদের দৃষ্টিতে, ইমাম হুসাইন (রাদ্বি.)-এর এ কোরবানি কোনো বাহ্যিক পরাজয় নয়, বরং সত্যের চিরন্তন ও শাশ্বত বিজয়। গাউসে যমান তৈয়্যব শাহ, দাতা গঞ্জে বখশ লাহোরী, . ইকবাল, মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি, খাজা গরীব নাওয়াযসহ প্রায় সকল বুযুর্গ বলেন : ‘ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য হযরত ইমাম হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু’র মতো নজীরবিহীন আত্মত্যাগ ক্বিয়ামত পর্যন্ত কেউ পেশ করতে পারবে না।’ তিনি বাতিলের সাথে আপোষ না করে শাহাদাতকে বরণ করে নেন।

আনজুমানএ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী শোহাদায়ে কারবালা মাহফিলের ২য় দিবসে বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বাদে মাগরিব পশ্চিম ষোলশহরস্থ দায়েম নাজির জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া জামে মসজিদে মাহফিলে বক্তারা আরও বলেন, নবী বংশের অনন্য উজ্জ্বল নক্ষত্র ইমাম হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর মধ্যে ছিল বহু সদগুণের সমাহার। একাধারে সাহাবিয়ে রাসূল, প্রিয়নবীর ঘোষণা অনুযায়ী জান্নাতি যুবকদের সরদার। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী, দৃঢ় মনোবলের অধিকারী, অকুতোভয় সৈনিক। খোদাভীতি, ইবাদতবন্দেগী, দানশীলতা, পরোপকারীতা ও উত্তম চরিত্রে তিনি ছিলেন এক কিংবদন্তী মহামানব। ইয়াজিদের দূরাচারিতা, দুশ্চরিত্রের কারণে তিনি তাকে সমর্থন করেন নি। কারবালার ময়দানে তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করে যে অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা কিয়ামত অবধি ঈমানদারদের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আনজুমান ট্রাস্টের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনজুমান ট্রাস্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এস এম গিয়াস উদ্দীন (সাকের), ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), ক্যাবিনেট মেম্বার পেয়ার মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হোসাইন খোকন, মাহমুদ নেওয়াজ, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ অছিয়র রহমান আলকাদেরী, আনজুমান সদস্য মুহাম্মদ নুরুল আমিন, সাদেক হোসেন পাপ্পু, মাহবুব ছাফা, বিভিন্ন স্তরের গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের সদস্যবৃন্দসহ হাজারো আশেকান।

মাহফিলে তাকরীর পেশ করেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন কাদেরী এবং আনজুমান রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ও গবেষক মাওলানা মুহাম্মদ আবুল হাশেম কাদেরী। সঞ্চালনায় ছিলেন জামেয়ার শিক্ষার্থী মুহাম্মদ সাঈদুর রহমান সাঈদ। শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ অছিয়র রহমান আলকাদেরী। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচবিতে উদ্বাস্তু সুরক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কাল
পরবর্তী নিবন্ধহাতির পাহাড়