চট্টগ্রাম–৯ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ধারণ করে বৈষম্যমুক্ত, অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ, শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের সাহসী ভূমিকা ও আত্মত্যাগ কোনো অবস্থাতেই অবমূল্যায়ন করা যাবে না। তাদের সাহস ও ত্যাগের কারণেই দেশের মানুষ বাক্ স্বাধীনতা ও ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছে। জনগণের সম্পদ লুটপাট এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ হয়েছে। তাই জুলাই বিপ্লবের অর্জন এ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তিনি গতকাল নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ ও জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যমুক্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ গড়ে তুলতে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি জুলাই যোদ্ধাদের অবদানকে সম্মান জানিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে এমন একটি আয়োজন করায় চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, ‘৩৬ জুলাই’ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনের অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেয়েছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও মুক্তভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা রক্ত দিয়েছে, সেই জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের সকল মুক্তিকামী মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরামকে প্রথম শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান।
জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন আবদুল্লাহ আল শাহেদ, আরিফ উদ্দিন রুবেল ও শরীফ হোসাইন শাহেদ। তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান, মর্যাদা ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সভাপতিত্ব করেন এসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম এবং সঞ্চালনা করেন দ্বিতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.জামাল উদ্দিন বাবলু। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন আবদুস সাত্তার। এরপর সমবেত জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। জুলাই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন, বিপ্লবী সংগীত এবং জুলাই যোদ্ধাদের উত্তরীয় প্রদানের মাধ্যমে সম্মাননা দেয়া হয়।
সভাপতি বক্তব্যে এস এম সাইফুল আলম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতা একত্রিত হয়ে ফ্যাসিবাদের বিরূদ্ধে সংগ্রাম করে এদেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছে। যদি তাদের আত্মত্যাগ না থাকত, ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসান হতো না। যেকোন কিছুর বিনিময়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, যাতে ফ্যাসিস্ট শক্তির পুনরুত্থান না হয়। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে গত বছর ১০ জন জুলাই যোদ্ধাকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছিল, এবার ২৫ জনকে দেওয়া হবে। তিনি আগামীতে ১০০ জন জুলাই যোদ্ধাকে সম্মাননা ও আর্থিক অনুদান প্রদানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস আইসিডির কমিশনার আবুল বাশার মো. শফিকুর রহমান, চট্টগ্রাম কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার শেখ আবু ফয়সল মো. মুরাদ এবং চট্টগ্রাম চেম্বার প্রেসিডেন্ট মো. আমিরুল হক। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।









