বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রযুক্তিসহ সব ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জামায়াতের জনশক্তিকে জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতায় নিজেদের প্রমাণ করতে হবে। মানুষের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তাই সংগঠনের জনশক্তিকে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। রাজনৈতিকভাবে আগ্রাসী দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। ভূখণ্ড দখলের পরিবর্তে তারা এখন রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে চায়। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশেষ করে সরকারকে নিজেদের অধীনস্থ করে রাখার যে কোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী নীতিগতভাবে অবস্থান করবে।
তিনি বলেন, আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি, জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় নিজেদের সমৃদ্ধ করা এবং আদর্শ ও আচরণের মাধ্যমে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হবে। তরুণ ও যুবসমাজের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং মানুষের সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সংগঠনের মধ্যে ভিন্নমতকে সম্মান করা, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের চর্চা, দুর্নীতি ও নৈতিকতাহীনতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ, নারী জনশক্তির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
গতকাল শনিবার নগরীর একটি মিলনায়তনে উপজেলা–থানা শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম অঞ্চলের দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি ছিলেন– অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবু তাহের মো. মাসুম, মাওলানা আবুল হাসনাত মো. আব্দুল হালিম ও ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ। শিক্ষাশিবিরে দারসুল কোরআন পেশ করেন চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা এটিএম মাসুম বলেন, ইসলাম মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল জীবনব্যবস্থা। আল্লাহর বিধানকে পরিপূর্ণভাবে মেনে চলার মধ্যেই মানুষের কল্যাণ নিহিত।
মাওলানা আবুল হাসনাত মো. আব্দুল হালিম বলেন, রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে জীবন গঠন করতে হবে। ঈমান ও আক্বীদার পাশাপাশি ইবাদাত, ফরজ–ওয়াজিব, সুন্নাত–নফল, পরিবার, প্রতিবেশী, ব্যবসা–বাণিজ্যে স্বচ্ছতা, যিকির ও দোয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, স্থানীয় সরকার গণতন্ত্রের প্রাথমিক ভিত্তি হলেও এ খাত নানা সীমাবদ্ধতায় রয়েছে। স্থানীয় সমস্যা স্থানীয়ভাবে সমাধান এবং রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে স্থানীয় সরকারকে কার্যকর ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। প্রান্তিক মানুষের সুযোগ–সুবিধা বৃদ্ধি ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে স্থানীয় সুশাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি মুমিন হিসেবে মানুষের সেবা করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, সংগঠনের ভেতর সুশৃঙ্খল পরিবেশ তিলে তিলে গড়ে তুলতে হয়। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। সংগঠন পরিচালনায় আদেশ ও আনুগত্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। শিক্ষাশিবিরে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী এবং খাগড়াছড়ি জেলা আমির অধ্যাপক সৈয়দ মো. আব্দুল মোমেন। এছাড়া শিক্ষাশিবিরে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি, উত্তর জেলা আমির আলাউদ্দিন সিকদার, মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমীন, উত্তর জেলা সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।













