রাউজানের পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের ননা হাজী বাড়ির দুলাল নামের এক ব্যক্তির মরদেহ তার স্ত্রী ও স্বজনরা দাফনের জন্য কাফন পড়িয়ে এনেছিলেন গ্রামের বাড়িতে কবর দিতে। মৃত ব্যক্তির স্ত্রী গ্রামের স্বজনদের মৃত্যুর খবর দিয়ে সকালে জানিয়েছিলেন দুলাল ঘুমের মধ্যে মারা গেছেন। খবর শুনে গ্রামবাসীর লাশ দফনের কবর খনন করাসহ সব ব্যবস্থা করে রাখেন। বিকালের দিকে অ্যাম্বুলেন্সে লাশ আসে। গাড়ি থেকে লাশ নামাতে গিয়ে কয়েকজন দেখেন লাশের কাফনে মাথায় রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। এই ঘটনা দেখে দুলালের মৃত্যু নিয়ে সবার সন্দেহ হলে লাশ দাফন স্থগিত রেখে দুলালকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার অভিযোগ করে ঘটনা জানানো হয় পুলিশকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশটি জব্দ করে পাঠায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রোববার। স্থানীয়রা জানিয়েছেন সিরাজ উদ্দৌলা প্রকাশ দুলাল ননাহাজী বাড়ির প্রয়াত আব্দুস সাত্তারের ছেলে। তিনি দীর্ঘ দিন প্রবাসে ছিলেন। স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকতেন নগরীর ষোলশহর সুন্নিয়া মাদরাসা সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায়।
স্থানীয়রা বলেছেন, রোববার সকালে নগরীর বাসায় সিরাজ উদ্দৌলার ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়। দুইটার দিকে কাফনে মোড়ানো লাশ দাফনের জন্য গ্রামের বাড়ি রাউজানের পূর্বগুজরায় আনা হয়।
আসরের নামাজের পর জানাজার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় উপস্থিত লোকজন কাফনের কাপড়ে অতিরিক্ত রক্তের দাগ দেখতে পান। এতে মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য তৈরি হলে স্থানীয়রা দাফন আটকে দেন। পরে স্থানীয়রা ঘটনা জানিয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
নিহতের এক আত্মীয় মো. ইউসূফ অভিযোগ করে বলেন, ‘সমপ্রতি সিরাজ উদ্দৌলাকে তার স্ত্রী ঘর থেকে বের করে দিয়েছিলেন। তখন তিনি আমাদের এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন। পরে আবার নিজের বাসায় ফিরে যান।’ তিনি দাবি করেন দুলালের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহতের স্ত্রী জাহেদা বেগমের দাবি, তাঁর স্বামীর স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়েছে। মৃত্যুর দুই দিন আগে তিনি ঘরে চেয়ার থেকে পড়ে গিয়ে সামান্য আঘাত পেয়েছিলেন। এই খবর পেয়ে রাউজান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রাত পৌনে ৯টার দিকে মরদেহটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।
রাউজান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাদ্দাম হোসেনও লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নিজাম উদ্দিন দেওয়ান বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। মরদেহ জব্দ করেছি। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।












