জীবন ও জীবিকার তাগিদে সুদূর ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন রাঙ্গুনিয়ার যুবক মো. মহসিন (৩০)। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে সেখানে এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি।
দীর্ঘ ৬ দিন হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে ওমানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
নিহত মো. মহসিন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সাহেদ আলী বাড়ির নুরুল আলমের ছোট ছেলে। তিনি দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মে ওমানের মাস্কাট আল খয়ের নামক এলাকায় কর্মস্থল থেকে ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল যোগে বাসায় ফিরছিলেন মহসিন। পথিমধ্যে হঠাৎ তার বাইকটি বিকল হয়ে গেলে তিনি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে সেটি পরীক্ষা করছিলেন। এসময় পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ‘প্রাডো’ গাড়ি তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত পান। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে মাস্কাটের ডারসেইটস্থ সরকারি খৌলা (Khoula) হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
ওমানে অবস্থানরত একই এলাকার বাসিন্দা তৈয়ব খান জানান, মহসিন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন। ২০১৭-১৮ সালের দিকে প্রথম ওমানে আসেন তিনি। সর্বশেষ মাত্র ৭-৮ মাস আগে দেশে গিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। বিয়ের মাত্র দুই-তিন মাস পরেই আবার কর্মস্থলে ফিরে আসেন। নতুন সংসার গুছিয়ে ওঠার আগেই তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
এদিকে মহসিনের মৃত্যুর খবর তার গ্রামের বাড়ি পারুয়ায় পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পরিবারের একমাত্র ছোট ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা বাবা-মা ও স্বজনরা। নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা যায়।












