পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর আজ। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে আজ সোমবার সন্ধ্যা থেকে সারাদেশে পবিত্র শবে কদর পালিত হবে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য ও রহমত লাভের আশায় ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে পবিত্র লাইলাতুল কদরের রজনী পালন করবেন।
মহান আল্লাহতায়ালা লাইলাতুল কদরের রাতকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন। হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও এ রাতের ইবাদত উত্তম। এই রাতে আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়। পবিত্র এই রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় এবাদতবন্দেগি করে থাকেন। পবিত্র রমজান মাসের লাইলাতুল কদরে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিল। তাই মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মসজিদসহ বাসাবাড়িতে এবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন। মুসলমানরা নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকিরুআসকার, দোয়া, মিলাদ মাহফিলের মধ্য দিয়ে শবে কদরের রজনী কাটাবেন।
পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষ্যে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি এই বরকতময় রাতের তাৎপর্য অনুধাবন করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বেশি বেশি ইবাদত–বন্দেগি ও মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত রাতের পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে গতকাল রোববার দেওয়া বাণীতে এ শুভেচ্ছা জানান তিনি। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লাইলাতুল কদর মহিমামণ্ডিত ও বরকতময় এক রাত। পবিত্র কুরআনুল কারিম রমজান মাসের এই মহিমান্বিত রাতেই অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেছেন। এ রাত মানবজাতির জন্য কল্যাণ, ক্ষমা ও রহমতের বার্তা নিয়ে আসে।’ এই রাতের ফজিলত তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘এই রাতে ইবাদত–বন্দেগি, তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়। রমজান মাস সংযম, আত্মশুদ্ধি, সহনশীলতা ও মানবিক গুণাবলির জাগরণের মাস। পবিত্র লাইলাতুল কদরের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করে।’
সবাইকে ইবাদতের প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই এই রাতের তাৎপর্য অনুধাবন করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বেশি বেশি ইবাদত–বন্দেগি করি এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করি।’
চট্টগ্রাম দরবার শরীফ : পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে চট্টগ্রাম দরবার শরীফের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ বোয়ালখালীর কধুরখীলে দরবারের প্রতিষ্ঠাতা হযরত আব্দুল মালেক শাহ (মাজিআ) মাজার প্রাঙ্গণে জিকির–আযকার, দরুদ–সালাম, ছেমা মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। দরবারে আগত ভক্ত–মুরিদদের উদ্দ্যোশে তকরির করবেন দরবারের সাজ্জাদানশীন আল্লামা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ (মাজিআ)।












