জুলাই জাতীয় সনদ সামনে রেখে সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিতে ১৭ সদস্যের বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। ক্ষমতাসীন জোটের পক্ষ থেকে ১২ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত আছে জানিয়ে বিরোধী দলকে পাঁচজনের নাম দিতে বলা হয়েছে। তবে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, এ বিষয়ে তাদের ‘ধারণাগত পার্থক্য’ আছে, তাই এখনই মত দেওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরে জানাবেন। গতকাল বুধবার ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে কথা হয়। খবর বিডিনিউজের।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংসদে বলেন, ‘বাংলাদেশে আজ যে সাংবিধানিক চর্চা চলে, চায়ের দোকান পর্যন্ত যে সাংবিধানিক চর্চা চলে, সেই সাংবিধানিক চর্চা আমরা এখানেও করতে চাই।’ তিনি বলেন, এ চর্চার অংশ হিসেবেই কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৬ বিধি অনুসারে সংবিধান সংশোধন–সংক্রান্ত একটি বিশেষ কমিটি করতে চায় সরকার। আইনমন্ত্রীর ভাষায়, ‘আমরা ১২ জনের নামের তালিকা ঠিক করেছি, যেখানে বিএনপি আছে, যেখানে গণঅধিকার পরিষদ আছে, যেখানে গণসংহতি আছে, যেখানে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টিও আছে এবং স্বতন্ত্র সদস্যদেরও রাখা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ট্রেজারি বেঞ্চের এই ১২ জনের মধ্যে বিএনপি থেকে সাতজন এবং অন্য দল ও স্বতন্ত্রদের মধ্য থেকে পাঁচজন রাখা হয়েছে। এরপর তিনি বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘উনাদের পক্ষ থেকে যদি আমি পারসেন্টেজ হিসেবে যাই, ২৬ শতাংশ আসে। সেখানে আমরা উনাদের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম চাচ্ছি।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করার জন্য আগামীকাল আমরা চাই, উনাদের পক্ষ থেকে যদি পাঁচজনের নাম কালকে দেন, তাহলে আমরা এ কমিটি গঠন করে আমরা সংবিধান সংশোধন এবং জুলাই সনদকে সামনে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।’ ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এরপর বিরোধীদলের নেতার উদ্দেশে বলেন, ‘ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ১২ জনের তালিকা ‘মোর অর লেস’ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং বিরোধী দলের কাছ থেকে পাঁচজনের নাম চাওয়া হচ্ছে। ওই ১৭ জনকে নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হলে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে যাবে।’
জবাবে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে চিফ হুইপ তার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সংসদ নেতার সালামও পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি উনাকে বলেছি যে, আমাদের মাঝে একটু আলোচনার বিষয় আছে। কারণ এখানে ‘কনসেপচুয়াল ডিফারেন্স’ আছে আমাদের।’ শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আলোচনা করে জানাব। আজকেই বোধহয় এটা হবে না। এই সেশনটায় আমরা মত দিতে পারব না।’ তার ভাষায়, ‘আমরা চেয়েছি রিফর্ম। আর এখানে হচ্ছে আপনার অ্যামেন্ডমেন্ট। এই জায়গাটায় আগেও আমাদের ডিফারেন্স ছিল, এখনো এটা আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘উনাদের যে প্রস্তাব, উনারা দিয়েছেন, সেটাকে আমরা নিলাম, শুনলাম। কিন্তু আমরা পরে জানাব। এখন আমরা কিছু বলছি না এ ব্যাপারে।’
বিরোধী দলের নেতা বক্তব্য শেষ করার পর আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এটাতে কোনো অসুবিধা নাই; আমরা অপেক্ষা করব। আমরা সংবিধান সংশোধনের পথে এগিয়ে যাব জুলাই সনদের আলোকে।’














